লালমনিরহাট বার্তা
রংপুরাঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণসহ ৬ দফা দাবীতে তিস্তা কনভেনশন
বার্তা ডেস্কঃ | ১৭ মে, ২০২২ ১১:০৫ AM
রংপুরাঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণসহ  ৬ দফা দাবীতে তিস্তা কনভেনশন
তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে গত ১৪ মে সকালে সদর উপজেলার তিস্তা ডিগ্রী কলেজ মাঠে তিস্তা বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও, ভাঙ্গন ঠেকাও, বৈষম্য দূরকর করতে হবে, তিস্তা পাড়ের কান্না- আর না, আর না, শিশু চাকরানী থাকবো না সহ বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত হয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রæত বাস্তবায়ন ও রংপুরাঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণসহ ৬ দফা দাবীতে তিস্তা কনভেনশন‘ ২২ অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতিত্ব করেন তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক ও রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিয়ার রহমান। তিস্তা কনভেনশনের মূলপত্র পাঠ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ড. তুহিন ওয়াদুদ। বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট বার্তার সম্পাদক ও স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য গেরিলা লিডার শফিকুল ইসলাম কানু, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ, লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্র সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন, কক্সবাজার মূহুরী নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাজী বছির উদ্দিন, রাজারহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু নূর আকতারুজ্জামান, রাজারহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ফরহাদ হোসেন মাস্টার, সংগঠনের কালীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি, উত্তর বাংলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মনওয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি ড. মহসিন আলী মন্ডল, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান আব্দুল কুদ্দুস, নাট্যকার মাখন লাল দাস, তিস্তা কনভেনশন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক সাজু সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির। তিস্তা কনভেনশনে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ, গণ প্রতিনিধি, পেশাজীবি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সেচ্ছাসেবকসহ তিস্তা দু‘পাড়ের হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ বরেন, ভারতের সাথে সুদীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরে তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং তিস্তা নদীকে পরিচর্যা না করায় অর্থাৎ খনন না করায় তিস্তা বুক ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষাকালে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজ এর গেট খুলে দেয়ায় পাহাড়ী ঢল নেমে আসায় তিস্তা দুই তীর ও চরাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রতি বছর ১০ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ও নিস্ব (২য় পৃষ্ঠায়)
হয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। জীবন-জীবিকার সন্ধানে ঢাকাসহ দেশে অন্যান্য শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেয়। তিস্তা পাড়ের এককালের সমৃদ্ধ কৃষক পরিবারের সদস্যরা বস্তিতে বসবাস করে রিক্সা চালায়,নির্মাণ শ্রমিক, গার্মেন্টস শ্রমিক, কুলি, মুঠে , মজুর, পাহাড়াদার, কাজের বুয়া এবং তাদের সন্তানেরা শিক্ষার পরিবর্তে জীবন বাঁচাতে ধনীর ঘরে শিশু চাকর-চাকরানী হিসেবে নিয়োজিত হয়ে নিপীড়ন, নির্যাতন সহ্য করে। অনেকেই ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের শিকার হয়, বিচার পায় না। তাদের অভিভাবকেরা মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট বিচার চেয়ে আকুতি জানায়।
নেতৃবৃন্দ নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবী জানান। প্রতি বছর সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন রোধে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও তা কয়েক বস্তা জিও ব্যাগ ফেলে টাকা লোপাট করা হয়। এমনকি বাঁধ নির্মাণেও বাড়ছে কারচুপি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী ব্যক্তি, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আংগুল ফুলে কলাগাছ হলে সাধারণ মানুষ নিস্ব হয়ে পড়ে।
নেতৃবৃন্দ, নিজস্ব অর্থায়নে বিজ্ঞান সম্মতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও রংপুরাঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। রংপুরাঞ্চলের কোটি মানুষের দাবী মানা না হরে রংপুরের মানুষ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তা নদীকে বাঁচানো না গেলে তিস্তা তীরবর্তী কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাবে। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মাসেতু তৈরী করেছে। তাই আমাদের দাবী হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে মাত্র সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা চীন, ভারত, আমেরিকার অর্থ সহায়তা বুঝি না, নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চাই।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে তিস্তা নদী ৩ হাজার ফিটসেক পানি ধারণ করতে পারছে না। ফলে অসময়ে বন্যা, নদী ভাঙ্গনের ফলে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ ও তাদের উৎপাদিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই ভারতের সাথে অবিলম্বে তিস্তা চুক্তি করতে হবে। সেই সাথে ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ পানি প্রবাহ কনভেনশন যা আইনে পরিণত হয়েছে। যেখানে অনুস্বাক্ষর করে প্রয়োজনে জাতিসংঘে তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। তাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কোনো বিকল্প নাই। সারা বছর তিস্তায় পানি রাখতে ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সই নিশ্চিত করার বিষয়টি আর কোনোভাবেই বিলম্ব করা যাবে না। তিস্তার ভাঙন, বন্যা, খরায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ভাঙনের শিকার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুর্নবাসন, তিস্তা শাখা-উপশাখা ও উপনদীগুলোতে পূর্বেকার সংযোগ স্থাপন, দখল ও দূষণমুক্ত করে জলাধার নির্মাণ, দুই পাশে শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান করতে হবে।
নেতারা বলেন, দেশের অন্য অঞ্চলগুলোতে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। অথচ রংপুর বিভাগে কোনো প্রকল্পই তারা হাতে নেয়নি। তারা বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু উত্তর অঞ্চলে কোনো উন্নয়ন নেই। এই অঞ্চলের পাঁচ জন মন্ত্রী থাকা সত্তে¡ও তিস্তা নিয়ে তারা কোনো কথা বলেন না। এদিকে তিস্তা কনভেনশনে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান
মেনন ও জাসদ (ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
এই বিভাগের আরও খবর