লালমনিরহাট বার্তা
রংপুরের কাউনিয়ায় সেতু পার হতে কাঠের সাঁকো দিয়ে
রংপুর অফিসঃ | ১০ অক্টোবর, ২০২১ ৯:৪৮ AM
রংপুরের কাউনিয়ায় সেতু পার হতে কাঠের সাঁকো দিয়ে
রংপুরের কাউনিয়ায় সেতুনির্মান ডিজাইনে ত্রæটি ও কচুরিপানায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে পানির তোরে ভেঙ্গে গেছে সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি।সেতুর ভিত্তির নীচথেকে মাটি সওে যাওয়ায় হেলে গেছে সেতুটি। সেই সঙ্গে সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সেতু দিয়ে চলাচল করতে সাধারণ মানুষকে এখন ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠের তৈরী সাঁকো। সাঁকো দিয়ে পার হওয়া এই সেতুর অবস্থান রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আরাজি হরিশ্বর গ্রামে।গ্রামের তিস্তা নদীর শাখা মানাস নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত। দীর্ঘদিনেও সেতুর সংস্কার ও সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তি উপজেলার প্রায় ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ।
রংপুরের উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্র জানায়,গত ২০১৪ সালে দুটি অ্যাবাটমেন্ট ও তিনটি ভার্টিক্যাল দেয়াল বিশিষ্ট বক্স কালভার্ট আকারে ৫৬ ফুট লম্বা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে ২০১৭ সালের বন্যায় সেতুর ভার্টিক্যাল দেয়ালে কচুরি পানা আটকে সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এই সড়ক ২০১৮ সালে সংস্কার করা হয়। এরপর ২০২০ সালে আবার কচুরিপানা আটকে পানির প্রবল ¯্রােতে সেতুর নির্মান ভিত্তির নিচের মাটি সরে গিয়ে সেতুটি হেলে গেছে সে সঙ্গে সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে পানির তোরে।
দেখা যায়, দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে এবং সেতুটি পশ্চিম দিকে হেলে আছে।এলাকাবাসী সেতুর দুদিকে সিমেন্টের খুঁটি ও কাঠের পাটাতন দিয়ে বানানো কাঠের সাঁকোয় সেতু পার হচ্ছেন।
উপজেলার আরাজি হরিশ্বর এলাকার কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, কয়েক জন মানুষ কাঠের সাঁকোর উপর উঠলে সাঁকোটি দো খেতে থাকে ভয়ও লাগে কখন আবার ভেঙ্গে পড়ে। সেতু পারাপাওে সাইকেল ও পায়ে হাটা ছাড়া যানবাহন চলাচল করতে পারেনা। জমির উৎপাদিত ফসল হাট- বাজারে নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়।
গোপীডাঙ্গা গ্রামের মোক্তার মিয়া বলেন,কেউ অসুস্থ হলে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেই সঙ্গে উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এটির সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছি।
উপজেলা সদর বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, মানাস নদীর ওপর ত্রæটিযুক্ত ডিজাইন (নকশা) অনসরন করে নদীর প্রস্থ কমিয়ে বক্স কালভার্ট বানানো হয়। এতে কচুরিপানা জমে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে। সেই সঙ্গে সেতুটি একদিকে হেলে গেছে। নতুন করে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি অনেকবার প্রকৌশল অধিদফতরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এতে উপজেলার ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান (জেমি) বলেন, গ্রামীণ ওই রাস্তাটি স্থানীয় সরকার অধিদফতরের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় সংস্কারে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাটি অধিদফতরের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাগজপত্র এলজিইডি ভবনে পাঠানো হয়েছে। অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর অনুমোদন পেলে পাকা সেতু ও রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
এই বিভাগের আরও খবর