লালমনিরহাট বার্তা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার নির্মাতা ও স্বপ্নপুরুষ মওলানা ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত
বিশেষ প্রতিনিধি \ | ২৪ নভেম্বর, ২০২১ ৯:৪৫ AM
বাংলাদেশের স্বাধীনতার নির্মাতা ও স্বপ্নপুরুষ মওলানা ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত
যুগ যুগ জিও তুমি- মওলানা ভাসানী, ভাসানীর স্বরণে ভয় করি না মরণে এই শ্লোগানে মুখরিত হয়ে গত ১৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল এর সন্তোষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার নির্মাতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫ তম মৃত্যু বাষিকী পালিত হয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়, ভাসানী পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠন সমুহ, ন্যাপ (ভাসানী), গণ সংহতি আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সহ- বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক পৃথক কর্মসুচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেন।
দিবসটি পালনে ১৬ নভেম্বর সকালে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ‘মাওলানা ভাসানীর অসম্প্রদায়িক চেতনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. আর এম সোলাইমান। মূখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার ড. সিরাজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. ইকবাল মাহমুদ। মৃল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মওলানা ভাসানী গবেষক, লেখক ও কোর্স শিক্ষক সৈয়দ ইরফানুল বারী, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ড. সৈয়দ মওদুদ-উল-হক।
১৭ নভেম্বর দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্যে ছিল বাদ ফজর কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ, দোয়া মাহফিল, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা শরীফ পাঠ। সকাল ৭- ৪৫ মিনিটে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. আর. এম সোলাইমান এর মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হাসরত খান ভাসানীর নেতৃত্বে পরিবারের সদস্য বৃন্দ, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্র লীগ, জেলা বিএনপি, জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল, মওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদ,ভাসানী পরিষদ সহ- বিভিন্ন সংগঠন মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন, মাজার জিয়ারত ও দোয়া- মাহফিল করেন।
মজলুম জননেতার ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী পালনে ভাসানী পরিষদের কর্মসুচীর মধ্যে ছিল শোভাযাত্রাসহ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত ও দোয়া মহফিল। এ সময় ভাসানী পরিষদের সভাপতি কবি বুলবুল খান মাহবুর, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য গেরিলা লিডার ড. এস. এম. শফিকুল ইসলাম কানু, সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী, পরিষদ নেতা জিল্লাহ খান, জাফর মুহাম্মদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১৬ ও ১৭ নভেম্বর মাজার প্রাঙ্গনে ভাসানী পরিষদের পক্ষ থেকে প্যাভিলিয়ন নির্মান করা হয়। উক্ত প্যাভিলিয়নে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মওলানা ভাসানী আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের ধারনকৃত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া এই প্যাভিলিয়ন থেকে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। উক্ত প্যাভিলিয়ন থেকে ভাসানী গবেষক সৈয়দ ইরফানুল বারী, আলরুহী, ভারতীয় লেখক সৌমিত্র দস্তিদার, আজাদ খান ভাসানী সম্পাদিত বই বিক্রয় করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক এর নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা মাজার প্রাঙ্গনে এসে সমবেত হয় এবং মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পন, মাজার জিয়ারত ও দোয়া করেন। এরপর ছাত্র লীগের একটি শোভাযাত্রা মাজার প্রাঙ্গনে এসে সমবেত হয় এবং মাজারে পুষ্প স্তাবক অর্পন করেন। মওলানা ভাসানী পরিবারের পক্ষ থেকে হাসরত খান ভাসানীর নেতৃত্বে একটি বিরাট শোভাযাত্রা মাজার প্রাঙ্গনে এসে পুষ্পস্তক অর্পণ পূর্বক মাজার জিয়ারত করেন।
দুপুর ১২টায় গণ অধিকার পরিষদের আহবায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব ভিপি নুরুল হক নুর এর নেতুত্বে নেতাকর্মীরা মাজার প্রাঙ্গনের পার্শ্বে মওলানা ভাসানী মাঠে অবস্থান নেন। তারা মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পার্শ্বে অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র লীগের নেতাকর্মীরা শ্লোগান দিতে থাকে, এক পর্যায়ে তারা গণ অধিকার পরিষদ এর নেতৃবৃন্দেও ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। ফলে গোটা এলাকা ও মাজার প্রাঙ্গনে আতংঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার্থে গণ অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ পুলিশের ট্রাকে আশ্রয় নেয়। সেখানেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আক্রমণ চালায়।
বিশেষত: তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ট্রাক ঘটনা স্থল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সময় ছাত্র লীগের নেতাকর্মীরা ইট, পাটকেল ও লাঠি ছুড়ে। এতে রেজা কিবরিয়ার, ভিপি নুরসহ অনেক নেতাকর্মীরা আহত হয়। ছাত্র লীগের নেতাকর্মীরা কিবরিয়া ও ভিপিনুর বিরোধী- শ্লোগান দিতে দিতে স্থান ত্যাগ করে। এই হামলার ফলে মাজার প্রাঙ্গনে উপস্থিত হাজার হাজার মওলানা ভাসানী ভক্ত, মুরিদান ও অনুসারীদের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়। তারা এই হামলার নিন্দা জানান এবং দোষী নেতাকর্মীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। এসময় ভাসানী পরিবার তাদেও পাশে দাঁড়ায়।
প্রায় ১ ঘন্টা পর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও তাদের বিভিন্ন অংগসংঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী মিছিলসহ মাজার প্রাঙ্গনে প্রবেশ করে। পুষ্পস্তবক অর্পন, মাজার জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। পরে ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণ সংহতি আন্দোলন ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের একটি যৌথ মিছিল মাজার প্রাঙ্গনে এসে সমবেত হয় এবং পুষ্পস্তবক অর্পন করে। এখানে ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি ডা: জাফর উল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জেনায়েদ সাকি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত কাইয়ূম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। নেতৃবৃন্দ গণ অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দের উপর ছাত্র লীগের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় ন্যাপ- ভাসানীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক দরবার হলে এক আলোচনা সভা ও ভক্তি মূলক গানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মওলানা ভাসানীর আধ্যাতিক গুরু সৈয়দ শাহসুফি নাসিরুদ্দীন বোগদাদী (র:) এর নাতি আব্দুর রাজ্জাক। সভাপতিত্ব করেন ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি হাসরত খান ভাসানী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাসানী পরিষদের উপদেষ্টা গেরিলা লিডার ড. এস. এম শফিকুল ইসলাম কানু। এ সময় মওলানা ভাসানীর কনিষ্ঠ কন্যা মনোয়ারা খানম ভাসানী, ন্যাপ ভাসানীর সাধারন সম্পাদক খালিদ শাহরিয়ার, আজাদ খান ভাসানী সহ ন্যাপ ভাসানীর নেতৃবৃন্দ ও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মওলানা ভাসানীর মৃত্যু বাষিকী উপলক্ষে দেশ ও বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত মুরিদান ও অনুসারী অংশ গ্রহন করেন। তাদের মাঝে তবারক বিতরন করা হয়।
এই বিভাগের আরও খবর