লালমনিরহাট বার্তা
মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় সিআইডির এএসপিসহ ৩জন আটক
রংপুর অফিসঃ | ২৫ আগস্ট, ২০২১ ১০:৪৪ AM
মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় সিআইডির এএসপিসহ ৩জন আটক
দিনাজপুরের চিরিরবন্দও উপজেলায় মা ও ছেলেকে অপহরণ করে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের সময় সিআইডি রংপুর রেঞ্জে সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীর,এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনেস্টবল আহসানুল কে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে চিরিরবন্দরের লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তির বাসায় অভিযানে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানকে গ্রেফতার করে গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। পরে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে বলে প্রস্তাব দিয়ে গাড়ীতে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাতে থাকে। গত ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টায় চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেডাই গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে মা জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীর কে নিজ বাসায় মারপিট করার পর মাইক্রোয়োগে অপহরন করা হয়। জহুরা বেগমের বাড়ির লোকজন র‌্যার,পুলিশ সহ বিভিন্ন জায়গায় আটকের বিষয়ে খোঁজ নেন। কিন্তু কেউ আটকের বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি। অপহরণকারীরা মোবাইলে জহুরা বেগম এর স্বামী লুৎফর রহমান ও দেবর রমজানের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।গতকাল মঙ্গলবার ২৪শে আগস্ট বিকেল ৫টায় দিনাজপুরের হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মুক্তিপণের টাকা দিতে যায় লুৎফর রহমান ও রমজান আলী। অপহরণ কারীরা বুঝতে পারে তাদের সাখে সিভিল ড্রেসে পুলিশ রয়েছে টের পেয়ে মাইক্রো নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দিনাজপুরের ১০ মাইল নামক স্থানে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলে। অভিযানে জেলা পুলিশ ও চিরিরবন্দর থানার পুলিশ অংশ নেয় বলে জানা গেছে। আটক কৃতদের দিনাজপুর ডিবি অফিসে রাখা হয়েছে। অপহৃত মা জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীরকে ও ডিবি অফিসে জিজ্ঞাবাদের জন্য রাখা হয়েছে। সদর উপজেলার বাশেরহাট থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তাদের আটক করা হলেও বিষয়টি বুধবার জানাজানি হয়।আটক তিনজন হলেন রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক।
লুৎফরের ভাগনে শামসুল আলম মানিক জানান, চিরিরবন্দরের পলাশ নামের এক ব্যক্তি লুৎফরের বিরুদ্ধে রংপুর সিআইডি কার্যালয়ে প্রতারণার একটি অভিযোগ করেন। এ ঘটনাটি চলতি মাসের শুরুর দিকের।সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবিরের নেতৃত্বে একটি দল গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় চিরিরবন্দরে গিয়ে তার মামার বাড়িতে অভিযান চালায়। লুৎফরকে না পেয়ে তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীরকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান তারা।মানিক আরও জানান, লুৎফর রহমানকে ফোন করে তার স্ত্রী-সন্তানের মুক্তির বিনিময়ে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা নিতে মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডি কর্মকর্তাদের দিনাজপুর সদর উপজেলার বাশেরহাটে আসতে বলেন লুৎফর। এর আগেই বিষয়টি তিনি চিরিরবন্দর থানা পুলিশকে জানিয়ে রাখেন। যাদের অপহরণ করা হয়েছে, তারা চিরিরবন্দরের লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, আটকৃতদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের হবে। সদর উপজেলার বাশেরহাট থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তাদের আটক করা হলেও বিষয়টি বুধবার জানাজানি হয়।আটক তিনজন হলেন রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক।
দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেছেন,আপনাদের (সাংবাদিকদের) পরে বিষয়টি জানানো হবে। বিষয়টি আমরা দেখছি।
রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত এস.পি আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন,সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে আমার অনুমতি ছাড়া ভাড়া করা একটি গাড়ি নিয়ে তারা অপারেশনে যায়। আটক হবার পর আমাকে জানানো হয়েছে। তারা যে আমাদের স্টাফ তা আমি জানিয়েছি।দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের এক নারী ও তার ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে রংপুর সিআইডির তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি জানান, আটক এএসআই ও কনস্টেবল ২১ আগস্ট থেকে দশ দিনের ছুটিতে ছিলেন।এর বাইরে কিছু জানি না।
এই বিভাগের আরও খবর