লালমনিরহাট বার্তা
রংপুর বিভাগের আট জেলায় দেবী দুর্গার আগমনে সেজেছে পূজামন্ডপ
রংপুর অফিসঃ | ১১ অক্টোবর, ২০২১ ৪:০৫ AM
রংপুর বিভাগের আট জেলায় দেবী দুর্গার আগমনে সেজেছে পূজামন্ডপ
রংপুর জেলায় এ বছর ৯৫৬টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।রংপুর মহানগরীতে ১৫৩টি, সদর উপজেলায় ১০২, বদরগঞ্জে ১৩২, মিঠাপুকুরে ১৪০, গংগাচড়ায় ১০৮, পীরগঞ্জে ৯৭, কাউনিয়াতে ৬৫, তারাগঞ্জে ৬৭, পীরগাছায় ৮৯টি শারদীয় দুর্গাপূজার মন্ডপ রয়েছে। পুরো রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৫ হাজার ১৮৯টি পূজামন্ডপ সেজেছে দূর্গা উৎসব আয়োজনে। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপ রয়েছে ১ হাজার ৩১১টি। আর গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬টি পূজা মন্ডপ। সাধারণ শারদীয় দুর্গাপূজার মন্ডপ হিসেবে ২ হাজার ৫৭২টি পূজা মন্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রতিমা কারিগররা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হৃদয়ের ভালোবাসায় মাটি তৈরী প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে এসেছে পূর্ণতা। কোথাও কোথাও শেষ বেলায় রঙ তুলির আঁচড়ে দেবীকে মূর্ত করে তোলার কাজে ব্যস্ত প্রতিমা কারিগররা। শৈল্পিক কারুকার্য্য আর রঙ তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় সেজেছে অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিমাগুলো।
গত বুধবার ভোর থেকে দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। মহালয়ার ছয় দিন পর শুরু হবে দেবী দুর্গার আরাধনা। আগামী সোমবার (১১ অক্টোবর) দুর্গতিনাশিনী দশভুজা দেবীর মহাষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব। ইতোমধ্যে মন্দিরে মন্দিরে প্রতিমা স্থাপন শেষ হয়েছে। এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় চড়ে, আর ফিরবেন দোলায়।দুর্গোৎসবে মন্ডপে- মন্ডপে বাজবে ঢাকের বোল, কাঁসার ঘণ্টা ও শাঁখের ধ্বনি। আর দেবী ভক্তদের আরাধনায় থাকবে অশুভ শক্তি বধের প্রার্থনা। পাঁচ দিনের এ উৎসবে সোমবার ষষ্ঠী আর পরদিন মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সপ্তমী। বুধবার অষ্টমী, বৃহস্পতিবার নবমী ও শুক্রবার দশমীর দিন বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে দূর্গা পূজার । এবারই রাজধানীর পরেই দেশের মধ্যে প্রথম শুভ মহালয়ার আয়োজন হয়েছে রংপুরের ডিমলা রাজ দেবোত্তর এস্টেটে।
কান্তি পূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন আয়োজন সম্পন্ন করতে প্রত্যেকটি মন্ডপে শৃঙ্খলা কমিটির পাশাপাশি থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এবার বিভাগে দুর্গোৎসবে র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ৩০ হাজারের বেশি আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মতো এবারও পূজার আয়োজনে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, দেবী দুর্গার আগমনে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জার প্রস্তুতি। প্রতিটি পূজামন্ডপের জন্য দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ, হাঁস, পেঁচা, সাপসহ বিভিন্ন ধরণের প্রতিমা তৈরী করেছে প্রতিমা কারিগররা। কোথাও কোথাও প্রতিমা রঙ করার কাজ শেষ পর্যায়ে। শৃঙ্খলা রক্ষায় মন্ডপে- মন্ডপে কমিটি গঠনের পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে ত্রিপলের ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সঞ্জিত কুমার বলেন, এবার বেড়েছে প্রতিমা কারিগরদের মজুরি। ভক্তরা সব কিছুকে ছাপিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্ততি সম্পন্ন করেছেন। এখন শুধু দেবী দুর্গার আরাধনার আনুষ্ঠানিকতা বাকি।রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১১ অক্টোবর দুর্গাদেবীর বেলষষ্ঠী পূজা, ১২ অক্টোবর মহাসপ্তমী বিহিত পূজা, ১৩ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১৪ অক্টোবর এক দিনে মহানবমী বিহিত পূজা এবং ১৫ অক্টোবর মহাদশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে করোনাকালের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
রংপুর নগরীর আনন্দময়ী সেবাশ্রম মন্দিরের পুরোহিত রিপন চক্রবর্তী জানান, দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে চড়ে পৃথিবীতে এলেও দোলায় করে স্বর্গে ফিরে যাবেন। করোনা সংক্রমণ রোধে পূজা উদযাপন পরিষদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।
রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ধীমান ভট্টাচার্য বলেন, এবার রংপুরে ৯৫৬টি মন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। প্রতিমা তৈরি, পূজা উদযাপন এবং প্রতিমা বিসর্জনসহ দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিষদের সদস্যরা কাজ করছেন। এর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক ও সজাগ রয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সার্বিক দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপনের বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে।
এই বিভাগের আরও খবর