লালমনিরহাট বার্তা
পাট বীজ চাষীরা প্রণোদনার সার পেল ৩ মাস পর, আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক
স্টাফ রিপোর্টারঃ | ১৫ নভেম্বর, ২০২২ ১০:২১ AM
পাট বীজ চাষীরা প্রণোদনার সার পেল ৩ মাস পর, আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাট বীজ উৎপাদনে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের দেওয়া প্রণোদনা সময়মত পাচ্ছেন না কৃষক। পাট বীজ চাষে এ উপজেলার কৃষকদের মাঝে বীজ দেওয়ার ৩ মাস পর দেওয়া হয়েছে প্রণোদনার সার। এভাবে প্রণোদনার বীজ ও সার দেওয়ায় পাট বীজ উৎপাদন ও চাষে আগ্রহ কমছে অনেকের।

জানা গেছে, উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ২ হাজারের অধিক পাট চাষি কৃষকের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে পাট বীজ উৎপাদনের জন্য প্রায় দেড় শত জন কৃষক বাছাই করা হয়। প্রত্যেক কৃষককে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত উচ্চফলনশীল বিশেষ পাটের বীজ জমির পরিমাণ মোতাবেক ২ শ গ্রাম থেকে প্রয়োজনমত, ৩ কেজি টিএসপি, সাড়ে ৪ কেজি ইউরিয়া, ৪ কেজি জিপসাম, ৮ শ গ্রাম পটাশ ও ৫০ গ্রাম কীটনাশক কৃষি প্রণোদনার আওতায় বরাদ্দ দেয় সরকার।

অভিযোগ উঠেছে এ বছরের আগস্ট মাসে পাট চাষে আগ্রহী কৃষকদের মাঝে বীজ প্রদান করা হয়। বীজ প্রদানের প্রায় ৩ মাস পর সার ও কীটনাশক প্রদান করে পাটগ্রাম উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়। অধিকাংশ কৃষক জানান, পাট চাষে পরিচর্চা, শ্রম ও খরচ বেশি। অপরদিকে ভুট্টা ও অন্যান্য আবাদে তুলনামুলক শ্রম এবং খরচ কম লাগে, এসব কারণে এমনিতেই পাট চাষে অনেকের আগ্রহ কম।

সরকারী উদ্যোগে পাট চাষ বৃদ্ধিতে প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। কিন্তু পাট বীজ দেওয়ার ৩ মাস পর সার ও কীটনাশক দিলে কিভাবে কৃষক পাট চাষাবাদে আগ্রহী হবে।

উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের রাজিব মিয়া (২৫) বলেন, ‘আমাকে ডেকে সারাদিন রেখে সার ও কীটনাশক দেয়নি। এর আগে বীজ দেওয়ার সময়ও হয়রানি হতে হয়েছে। বীজ ও সার অসময়ে দেওয়ায় পাট চাষ ঠিকমত করা যাচ্ছে না।’

একাধিক কৃষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ‘উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা চাষিদের নিকট আসেন না। তাঁরা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে যান, পছন্দ মত কৃষকদের তালিকা করে বীজ ও সার দেন। সময়মত বীজ, সার দেন না। অনেক সময় বিতরণ না করে মেরে দেয়/ বিক্রি করে।’

উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ের উপসহকারী কর্মকর্তা আবু হাসান বলেন, ‘বরাদ্দ যেভাবে আসছে, সেভাবে প্রদান করা হয়েছে।’

জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস ছাত্তার বলেন, ‘জেলার মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলায় সবচেয়ে কম পাট আবাদ কম হয়। পাট বীজ দেওয়ার সময় সারের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বরাদ্দ পেয়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’

এই বিভাগের আরও খবর