লালমনিরহাট বার্তা
আওয়ামী লীগ বগুড়া জেলা সভাপতি মজনুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল
বার্তা মনিটরঃ | ১৭ মে, ২০২২ ১:০৬ PM
আওয়ামী লীগ বগুড়া জেলা সভাপতি মজনুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল
আওয়ামী লীগের বগুড়া জেলা কমিটি সভাপতি ও শেরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মনজু’র জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্দা কাউন্সিল।
আওয়ামী লীগ জেলা সভাপতি মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম উঠাতে ব্যক্তিগত তথ্যে লাল-মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত ১২১ নম্বরটি ব্যবহার করেন। যে নম্বরটি আদমদীঘি উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমানের নামে মিল থাকায় সুযোগ নিয়ে ২০০৫ সালে মজিবুর রহমান মজনু মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম অন্তভুক্ত করাতে সক্ষম হন।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান অভিযোগ করলে সুদীর্ঘ ১৬ বছর পর মজনু‘র জালিয়াতির রহস্য উদঘাটিত হয় । মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় অভিযোগ শুনানীর জন্য মজনু, অভিযোগকারী ও ৩ জন সহযোগি মুক্তিযোদ্ধাকে ঢাকায় ডাকা হয়। শুনানীতে স্থানীয় ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষ্য দেন। তবে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা প্রমানের জন্য মজনু কোন দলিলপত্র দেখাতে পারেন নি। পরে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭৮ তম সভায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে মজনুর নাম বাদ দেয়া হয়। অভিযোগ বিষয়ে মজনু বলেছেন, আমি আদালতের আশ্রয় নিব। ইতোমধ্যে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্থা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেন। উক্ত গেজেট অনুসরণ না করে পরবর্তীতে সরকারগুলো মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ১৬ বার পরিবর্তন করে লক্ষাধিক অমুক্তিযোদ্ধাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত করেছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট প্রকাশিত হচ্ছে। যা লজ্জাজনক ও কলংক জনক বলে ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
দেশে লক্ষাধিক অমুক্তিযোদ্ধাকে বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করায় জনমনে মুক্তিযোদ্ধা সর্ম্পকে বিরূপ ধারণার জন্ম নেয়। সরকারী কোষাগার থেকে এ সকল অমুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেয়ার মানুষের মাঝে ঘৃনার উদ্রেক হয়েছে। তাই তো অনেক সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরকারী দপ্তরের চেয়ারে বসে একজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে হাত মিলাতে লজ্জাবোধ করে না। বিগত ৫০ বছরে দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও অবৈধভাবে বাণিজ্য করনের মাধ্যমে (অর্থাৎ টাকা লেনদেনের) অমুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট ভুক্ত করে বীর মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুক্তিযোদ্ধা ৭১ সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সরকারের গেজেট মোতাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্ত দাবী জানানো হয়ে আসছে। মুক্তিযোদ্ধা ৭১ সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে যাদের অবদান রয়েছে, তাদেরকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তবে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত সংজ্ঞাকে বহাল রেখে মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি ব্যবহার না করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুজিব নগর সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারী মুক্তিযুদ্ধের শব্দ সৈনিক, বীরঙ্গনা ইত্যাদি উপাধী দেয়া যেতে পারে।
এই বিভাগের আরও খবর