সকালের রুটিনে খালি পেটে এক চামচ ঘি খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বিনোদন জগতের কয়েকজন পরিচিত মুখ এই অভ্যাসকে সুস্থ থাকা ও ত্বকের যত্নের সহজ উপায় হিসেবে তুলে ধরায় বিষয়টি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে হজম ভালো হয় এবং শরীর ভেতর থেকে শক্তিশালী থাকে।
আয়ুর্বেদিক জীবনধারার সঙ্গে মিল আছে—এই যুক্তিতে অনেকে দিনের শুরুতেই ঘি খাওয়াকে স্বাস্থ্যকর বলে ধরে নিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি কতটা নিরাপদ, সে প্রশ্ন তুলছেন পুষ্টিবিদ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘি পুষ্টিকর হলেও এটি সম্পূর্ণ চর্বিজাত খাদ্য। এতে শতভাগ ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে এবং অল্প পরিমাণেই ক্যালোরির মাত্রা বেশ বেশি। এক গ্রাম ঘিতে প্রায় ৯ ক্যালোরি শক্তি থাকে, যা সাধারণ শর্করা বা প্রোটিনজাত খাবারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে নিয়ম না মেনে বা অতিরিক্ত পরিমাণে ঘি সেবন করলে ওজন বাড়ার পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে।
তাদের আরও বক্তব্য, প্রাচীনকালে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক পরিশ্রম অনেক বেশি ছিল। সেই সময় ঘি শক্তির উৎস হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখত। কিন্তু আধুনিক জীবনে যেখানে চলাফেরা ও শারীরিক কাজ অনেকটাই কমে গেছে, সেখানে আগের মতো ঘি গ্রহণ শরীরের জন্য উপকারী নাও হতে পারে।
চিকিৎসকদের একাংশ সরাসরি বলছেন, সকালে খালি পেটে ঘি খাওয়াকে হজমশক্তি বাড়ানোর নির্ভরযোগ্য উপায় বলা ঠিক নয়। বরং ব্যক্তির বয়স, দৈহিক পরিশ্রম, ওজন ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নির্ভর করেই খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ঘি সম্পূর্ণ বাদ নয়, তবে সেটিকে ‘ট্রেন্ড’ হিসেবে অনুসরণ করার আগে সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।