ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝাঁজ দেখায় বার্সেলোনা। দ্রুত পাস, ধারালো মুভমেন্ট আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যেই চার গোল আদায় করে নেয় কাতালানরা। ফলে সেমিফাইনালেই কার্যত শেষ হয়ে যায় লড়াই। আথলেতিক বিলবাওকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে উঠে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
সৌদি আরবের জেদ্দায় বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এই সেমিফাইনালে হান্সি ফ্লিকের দল পুরো সময়জুড়েই নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রথমার্ধেই ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেয় বার্সেলোনা, বিরতির পর আরও একবার জাল কাঁপিয়ে বড় জয়ের সিলমোহর বসায় তারা।
এই জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হন। এছাড়া একটি করে গোল করেন ফেররান তরেস, ফের্মিন লোপেস ও রুনি বার্দগি।
পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট ছিল বার্সেলোনার আধিপত্য। প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে তারা নেয় ১৩টি শট, যার ৭টিই ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বিলবাওয়ের ৯টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৩টি। চমকপ্রদ একাদশ নামান কোচ ফ্লিক। লামিনে ইয়ামাল ও রবার্ট লেভানদোভস্কিকে শুরুতে বেঞ্চে রেখে ম্যাচ শুরু করেন তিনি।
ষোড়শ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রির নেওয়া শট সহজেই ঠেকান গোলরক্ষক উনাই সিমন। এরপর ২০তম মিনিটে ফের্মিন লোপেস ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগ পেলেও গোলরক্ষকের গায়েই বল মারেন।
এক মিনিট পর আর ভুল করেনি বার্সেলোনা। ডান প্রান্ত থেকে বার্দগির পাসে প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হলেও দ্রুত বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে শক্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন ফেররান তরেস।
৩০তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ফের্মিন লোপেস। বাঁ দিক দিয়ে রাফিনিয়ার পাস পেয়ে প্রথম স্পর্শেই বাঁ পায়ের জোরাল শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। চার মিনিট পর ফের্মিনের অ্যাসিস্ট থেকেই তৃতীয় গোলটি করেন রুনি বার্দগি। উনাই সিমন বল ঠেকালেও তা তার হাতের নিচ দিয়ে গড়িয়ে জালে ঢুকে যায়।
৩৮তম মিনিটে আসে চতুর্থ গোল। বার্দগির পাস ধরে বক্সে ঢুকে কাছের পোস্ট দিয়ে দারুণ গতির শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন রাফিনিয়া। এর মাধ্যমে স্প্যানিশ সুপার কাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোল করার কীর্তি গড়ে বার্সেলোনা।
৪২তম মিনিটে বিলবাও কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ভাগ্য সহায় হয়নি। মিডফিল্ডার সানসেতের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির পরও আক্রমণের গতি ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৫২তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের পঞ্চম গোলটি উপহার দেন রাফিনিয়া। হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকলেও ৬৫তম মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ ফ্লিক, বদলি হিসেবে নামেন মার্কাস র্যাশফোর্ড।
এরপর ৭২তম মিনিটে বার্দগির জায়গায় মাঠে নামেন লামিনে ইয়ামাল। শেষ দিকে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল হয়নি।
একই মাঠে বৃহস্পতিবার অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল।