পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে আদিয়ালা কারাগারে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) পিটিআইয়ের ১৭ জন সিনেটরের একটি প্রতিনিধি দল সংবিধানের ১৯৯ অনুচ্ছেদের আওতায় এই আবেদন দাখিল করে। আবেদনে পাঞ্জাব স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে বিবাদী করা হয়েছে।
ডন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে যে, কারাগারে ইমরান খান ও বুশরা বিবির সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের একক কারাবাসে রাখা হয়েছে, যা অসাংবিধানিক ও নির্যাতনের শামিল।
সিনেটর ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জাফরের নেতৃত্বে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, গত দুই মাস ধরে কোনো বিচারিক আদেশ বা আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে সম্পূর্ণভাবে একঘরে করে রাখা হয়েছে। তাদের বই, পত্রিকা ও টেলিভিশনের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে গোপন সাক্ষাতের সাংবিধানিক অধিকারও খর্ব করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সিনেটরদের মতে, এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে পাকিস্তানের সাংবিধানিক গণতন্ত্র ও সংসদীয় তদারকি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যারিস্টার আলী জাফর বলেন, সংসদীয় নজরদারি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
কারাগারের ভেতরে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বাইরে রাজপথেও উত্তাল পিটিআই। আদিয়ালা কারাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে রাওয়ালপিন্ডিতে সমাবেশ করার সময় পুলিশ পিটিআই সমর্থকদের ওপর লাঠিচার্জ করে।
বুধবার মধ্যরাতের পর পিটিআই জানায়, পুলিশের অভিযানে দলের বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পিটিআইয়ের অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর এবং সাবেক স্পিকার আসাদ কায়সার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে ইমরান খান ও বুশরা বিবির মামলার দ্রুত শুনানির দাবি জানান।
ব্যারিস্টার গওহর গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির অনুরোধ জানাতে তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন, তবে সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পিটিআই ইতিমধ্যে ১৫ বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
বিশেষ করে একজন নারী হিসেবে বুশরা বিবির আপিলটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোনা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। পিটিআই নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং বন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে তারা আইনি ও রাজপথ—দুই ধারার আন্দোলনই অব্যাহত রাখবে।
সূত্র: ডন নিউজ