সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, পাল্টা জবাবের বার্তা ইইউর


প্রকাশ :

গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি থেকে পিছু হটছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দাবির বিরোধিতা করলে ইউরোপের একাধিক দেশের ওপর ঘোষিত শুল্ক আরোপের হুমকি তিনি “শতভাগ” বাস্তবায়ন করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের পর গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। খবর বিবিসির।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, হুমকি কিংবা চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিক হতে পারে না। তার ভাষায়, কিছু সীমারেখা আছে, যেগুলো অতিক্রম করা যায় না। একই সুরে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের।

সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। বরং তিনি জানান, যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোর সাতটি মিত্র দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করবে। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

ট্রাম্প জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যের সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা ১ জুন থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া একই ধরনের শুল্ক ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব দেশই ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য।

শুল্ক আরোপের হুমকি আদৌ বাস্তবায়ন করবেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “করবো, শতভাগ।” একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইউরোপের উচিত গ্রিনল্যান্ড নিয়ে না ভেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া।

অন্যদিকে ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ ন্যাটোর ভবিষ্যৎকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রতীকীভাবে সীমিত সংখ্যক সেনা গ্রিনল্যান্ডে পাঠিয়েছে। এর পরপরই ট্রাম্প ওই আটটি ন্যাটো সদস্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, ইউরোপকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝাতে হবে যে শুল্কের হুমকি কোনো সমস্যার সমাধান নয়। স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “হুমকি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিক হওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি আরও ঘোলা করার কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই।”

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে ন্যাটো।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে আগামী বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে জরুরি শীর্ষ বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া ক্যালাস বলেন, ইউরোপ কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না, তবে নিজেদের অবস্থান থেকেও সরে দাঁড়াবে না। তার কথায়, “সার্বভৌমত্ব কেনা-বেচার বিষয় নয়, আর বাণিজ্যিক হুমকি এই সমস্যার সমাধান হতে পারে না।”

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের মধ্যকার কিছু কথোপকথনও সামনে এসেছে। সেখানে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, নরওয়ের কারণেই তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি। জবাবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জানান, নোবেল পুরস্কার একটি স্বাধীন কমিটি দিয়ে থাকে, সরকারের এতে কোনো ভূমিকা নেই।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে নরওয়ের অবস্থান স্পষ্ট—গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ, এবং এই ইস্যুতে নরওয়ে পুরোপুরি ডেনমার্কের পাশে রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ প্রতিরক্ষা সংস্থা নোরাড জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে একাধিক সামরিক বিমান পাঠানো হচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, এটি নিয়মিত ও পূর্বপরিকল্পিত কার্যক্রম, যা আগেই ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারকে জানানো হয়েছিল। ২০২২, ২০২৩ এবং গত বছরেও একই ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।