গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অঞ্চলকে ঘিরে সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে নিয়মিত ও গভীর আলোচনা চলছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। তার মতে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর উপস্থিতি না থাকলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অঞ্চলটির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই জায়গায় নিয়ন্ত্রণ হারালে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক’ তৈরি হতে পারে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও স্পষ্ট করে দেন যে বিষয়টি নিয়ে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা থেমে নেই। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্পও খোলা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আপস করবে না। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সহযোগিতা না পেলে শুল্ক আরোপের মতো সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি প্রস্তুত—এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। অতীতে ফ্রান্সের সঙ্গে ওষুধপণ্যের মূল্য নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে এনে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে একই কৌশল এখানে প্রয়োগ করা হতে পারে।
এর আগেও ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড যেন রাশিয়া বা চীনের প্রভাবের আওতায় না চলে যায়, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে। এমনকি তিনি অঞ্চলটি ‘অধিগ্রহণ’ করার কথাও বলেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো প্রশ্নই নেই এবং দ্বীপটির ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব অটুট।
এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার ডেনমার্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেন, আলোচনা খোলামেলা হলেও সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনো ভিন্ন রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ড এখন আর কেবল একটি ভূরাজনৈতিক অঞ্চল নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি কেন্দ্রীয় উপাদান।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি