বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

ইরানে সংঘাত ছড়িয়ে, ৩৪ বিক্ষোভকারী নিহতের দাবি


প্রকাশ :

ইরানে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত ও সহিংস হয়ে উঠছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, টানা ১১ দিনের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতেও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহর ও নগরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি ও টিয়ার গ্যাসের মুখে বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লোরদেগান শহরে সশস্ত্র হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

তেহরান, কাজভিন, বন্দর আব্বাস ও পবিত্র শহর মাশহাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিক্ষোভকারীরা সরকার ও ধর্মীয় নেতৃত্ববিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত পাহলভি রাজবংশের পক্ষেও স্লোগান শোনা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অস্থিরতার মূল কারণ ইরানি মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন ও প্রায় ৪০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। সেখান থেকেই আন্দোলন দ্রুত সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতায় দেশটির অর্থনীতি চরম চাপে রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ৭১ মিলিয়ন নাগরিককে মাসিক সাত ডলার সমপরিমাণ বিশেষ ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা জনঅসন্তোষ কমাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সতর্কবার্তার কারণে বড় পরিসরের দমন অভিযান নিয়ে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই ‘দাঙ্গাকারীদের’ দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের পর এটিকেই বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ও চ্যালেঞ্জিং জনবিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা