বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

মার্কিন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, লাগতে পারে ১৫ হাজার ডলার জামানত


প্রকাশ :

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত করেছে মার্কিন সরকার। সদ্য প্রকাশিত ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মার্কিন ভিসা পেতে এখন থেকে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নীতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে। নতুন তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে মোট ৩৮টি দেশ এই ব্যবস্থার আওতায় পড়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি১/বি২)-এর জন্য এই বন্ড আরোপ করা হতে পারে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার সব যোগ্যতা পূরণ করলেও কনস্যুলার কর্মকর্তা চাইলে আবেদনকারীর ওপর ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। জামানতের অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে তিন ধাপে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার। আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ব্যক্তিগত তথ্য এবং সাক্ষাৎকারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই অঙ্ক নির্ধারণ করবেন।

নির্ধারিত জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার লিখিতভাবে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে আবেদনকারীদের।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, এই ভিসা বন্ড একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তির সংখ্যা কমানো। যেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ‘ওভারস্টে’-এর হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের আগস্টে সীমিত কয়েকটি দেশ নিয়ে এই কর্মসূচি চালু হয়েছিল।

এই জামানত স্থায়ীভাবে কেটে নেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে অর্থ ফেরতযোগ্য। যেমন—ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পেলেও ভ্রমণ না করলে, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে কেউ যদি ভিসার অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার ধরন পরিবর্তনের আবেদন করেন, যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা এসাইলাম চাইলে, সে ক্ষেত্রে জমা দেওয়া অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

ভিসা বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের শুধুমাত্র তিনটি নির্ধারিত বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। সেগুলো হলো—বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসবের বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে পারে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে এই নীতি ভিন্ন ভিন্ন সময় থেকে কার্যকর হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। পর্যটন, ব্যবসা কিংবা স্বল্পমেয়াদি সফরের পরিকল্পনায় আগের চেয়ে বেশি আর্থিক প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়বে।

ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ভ্রমণকারী ভিসার শর্ত—বিশেষ করে অবস্থানকাল—মেনে চলবেন বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। যদিও বেশিরভাগ দেশ ভিসা দেওয়ার সময় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ চায়, ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়ার এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি প্রচলিত নয়। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সীমিত পরিসরে এমন উদ্যোগ নিলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।