গাজায় শীতকালীন ঝড়ের চাপ দ্বিতীয় দিনেও থামেনি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিতে আশ্রয়কেন্দ্রের শত শত তাঁবু পানি ঢুকে পড়েছে। যারা যুদ্ধের ভেতর দিয়ে বেঁচে আছে, তাদের জন্য এই নতুন বিপদ সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
আনাদোলু এজেন্সি জানায়, অবিরাম বৃষ্টিতে বহু তাঁবু ডুবে যায়। যেসব পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল, তারা আবারও দুর্ভোগে পড়েছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, দক্ষিণ রাফাহ অঞ্চলে কয়েক ডজন তাঁবু পুরোপুরি প্লাবিত হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, বাস্তুচ্যুত শিবিরে থাকা আড়াই লাখেরও বেশি পরিবার ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে ঝুঁকিতে আছে। ঝড় বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে, বিশেষ করে যেসব পরিবারের কোনো বিকল্প আশ্রয় নেই।
এর আগে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছিল, একটি শক্তিশালী মেরু নিম্নচাপ বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এলাকা জুড়ে প্রভাব ফেলবে। এতে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ নতুন করে বিপদের মুখে পড়বে।
সংবাদ সংস্থার তথ্যে দেখা যায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার আশ্রয়স্থলগুলোতে হাজার হাজার তাঁবু প্লাবিত হওয়ায় বিছানা, পোশাক আর খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ঠান্ডার মধ্যে যথাযথ উষ্ণতা বা সুরক্ষা ছাড়াই রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরে অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন লাখ তাঁবু ও প্রিফেব্রিকেটেড আবাসন ইউনিট জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। আর জাতিসংঘের ধারনায়, পুরো গাজা পুনর্গঠনে খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।
এই যুদ্ধের আগ্রাসনে বহু প্রাণহানি হয়েছে, যার বড় অংশ নারী ও শিশু। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হামলা থেমে যায়, কিন্তু মানুষের জীবনযুদ্ধে দুর্ভোগ এখনো কমেনি।