শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

জাতীয় সংসদে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস


প্রকাশ :

সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করেন এবং পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নতুন এই আইনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পুরনো পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণগত মান, টেকসই উন্নয়ন এবং ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করার বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিলটির মাধ্যমে আগে জারি করা ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে।

আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘সাস্টেইনেবল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (এসপিপি)’ ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা। ফলে সরকারি ক্রয়ে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

নতুন ১৬ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, টেন্ডার ডকুমেন্টে এমন কোনো শর্ত রাখা যাবে না যা পরিবেশের ক্ষতি করে বা শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন করে। এর মধ্যে ন্যায্য মজুরি, সামাজিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্য।

প্রযুক্তিনির্ভর ক্রয় ব্যবস্থা জোরদারে বিলে ‘রিভার্স অকশন’ পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে সরবরাহকারীরা কম দামে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেবে। এতে সরকারি ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

বিল অনুযায়ী বিপিপিএ-কে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং ‘ফিজিক্যাল সার্ভিসেস’কে পৃথক ক্রয় খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট ব্যবহারের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পূর্বনির্বাচিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক ক্রয় কার্যক্রম সহজ করতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন বা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রয় পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে হবে।

দেশীয় আইটি খাতের সুরক্ষায় বলা হয়েছে, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে যৌথ অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ২০০৬ সালে প্রণীত আইনটি ২০১৬ সাল পর্যন্ত কয়েক দফা সংশোধন করা হলেও বর্তমান বাস্তবতায় আরও সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়। বিশেষ করে মূল্যসীমা নির্ধারণের কারণে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় নতুন বিধান সংযোজন জরুরি হয়ে পড়ে।

নতুন এই আইনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় গতি, স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।