সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ জাতীয়

পরপর তিন ভূমিকম্পে আতঙ্ক, সক্রিয় ফল্টে আফটারশকের শঙ্কা


প্রকাশ :

পরপর তিনটি ভূমিকম্প আঘাত হানায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অঞ্চলে নতুন করে আফটারশকের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে ফল্ট লাইনে এই কম্পনগুলো ঘটেছে সেটি অত্যন্ত সক্রিয়, ফলে আগামী কয়েক দিনে ছোট–বড় ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) অনুযায়ী প্রধান ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি সেই একই ফল্টে ঘটেছে, যেখানে ২০২৪ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। এই কারণেই আফটারশকের ঝুঁকি বাড়ছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মূল কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারে, কক্সবাজারের দক্ষিণ–পূর্বে ২০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে।

এর মাত্র ২০ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে মিয়ানমারে আবারও ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে—রাখাইন রাজ্যের সিত্তে শহর থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পূর্ব–উত্তর–পূর্বে।

এর আগেও ভোরে আরেকটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এটি অপেক্ষাকৃত মৃদু হলেও অনুভূত হয় বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়, ঢাকার দক্ষিণ–পশ্চিমে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দূরে।

সব মিলিয়ে একদিনে তিন দফা ভূমিকম্প একই সক্রিয় ফল্ট অঞ্চলে ঘটায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—এ ধরনের ধারাবাহিক কম্পন ভবিষ্যতের বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিতও হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।