আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাবলিগ জামাতের আয়োজনে এবার প্রথমবারের মতো রংপুরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভাগীয় ইজতেমা। প্রায় ৮০ একর বিস্তৃত মাঠে কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগমে তিল ধারণের জায়গা নেই। বুধবার রাত থেকেই মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ইজতেমা ময়দান পূর্ণ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ফজরের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী বিভাগীয় ইজতেমার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
ইজতেমা মাঠে বয়সজনিত ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুজনের মৃত্যু স্বাভাবিক বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইজতেমা মাঠের ৬ নম্বর হালকার জিম্মাদার ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম। নিহতরা হলেন—রংপুরের পীরগঞ্জ থানার সাঈদুর রহমান এবং টাঙ্গাইল জেলার তারা মিয়া। টাঙ্গাইলের মুসল্লি তারা মিয়া চল্লিশ দিনের চিল্লায় রংপুরে এসে ইজতেমায় যোগ দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবারের সূচনা বয়ান করেন মাওলানা আব্দুল কাদের। আয়োজকদের ধারণা, শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে আরও বেশি মুসল্লির উপস্থিতি হবে। শনিবার দুপুর ১২টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিভাগীয় ইজতেমা।
আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, রংপুর বিভাগের আট জেলার সাথিরা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চল্লিশ দিনের চিল্লায় অংশ নেওয়া সাথিরা ইজতেমায় এসেছেন। ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২০০ বিদেশি মেহমানও অংশ নিয়েছেন।
ইজতেমা মাঠের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থায়ী সংযোগের পাশাপাশি শতাধিক জেনারেটর রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের ওজু ও গোসলের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও ট্যাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটির সদস্য খালেকুজ্জামান রাজা।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, বিভাগীয় পর্যায়ে এটি প্রথম ইজতেমা হওয়ায় আয়োজনের সার্বিক নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।
ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন জানান, মৃত দুই মুসল্লির জানাজা ইজতেমা ময়দানেই সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পশুরাম থানার ওসি মাইদুল ইসলাম বলেন, দুই মুসল্লির মৃত্যু বয়স ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হয়েছে, এবং দুজনেরই মৃত্যু স্বাভাবিক।