বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হাসিনার সহায়তায় এগিয়ে এলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রীসহ প্রশাসন!
স্টাফ রিপোর্টার: অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রি নয়, সন্তানের ভবিষ্যত গড়তে দত্তক দিয়েছেন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি মা হাসিনা বেগম । এ ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হাসিনা বেগমের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নরুজ্জামান আহম্মেদ, জেলা প্রশাসন ও  উপজেলা প্রশাসন।
আদিতমারী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, দত্তক দেয়া সন্তানকে শনিবার তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হবে। সেই সাথে তার নামে প্রতিবন্ধি ভাতা ও সরকারীভাবে তৈরি করে দেয়া হবে বাড়ি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি হাসিনা বেগম (৪১) কে বিয়ে করেন উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের টেপারহাট গ্রামের জোকতার আলী। এই প্রতিবন্ধি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রতিবন্ধি নারীর বাড়ি একই ইউনিয়নের  তালুক হরিদাস নয়াটারী গ্রামে। প্রতিবন্ধি নারীকে বিয়ে করে কিছুদিন নিজের সংসারে রেখে ছিল স্বামী। পরে তাকে বাবার বাড়ি পাটিয়ে দেয়া হয়। স্ত্রীকে কোন ভরনপোষণ দেয়া হয়না। কিন্তু স্বামীত্ব খাটায়। মাঝে মাঝে রাত্রিযাপনে স্ত্রীর সাথে সময় কাটাতে আসেন। প্রতিবন্ধী নারীর সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলের জম্ম হয়। মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। ছেলেটি হোটেল বয়ের কাজ করেন। প্রতিবন্ধি নারী পূণরায় গর্ভধারণ করেন।
অবশেষে গত ৬ অক্টোবর ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। এবার স্বামী প্রতিবন্ধি স্ত্রীকে ফুসলিয়ে কুড়িগ্রামের এক স্বচ্ছল পরিবারের কাছে দত্তক দেয়। শিশুটিকে তার এক দিনমজুর নিঃসন্তান মামা সন্তানের মযার্দা দিয়ে লালনপালন করতে চেয়েছিল। স্বামী প্রতিবেশি অধির  চন্দ্রের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের এক নিঃসন্তান দম্পত্তির কোলে নবজাতক শিশুটিকে তুলে দেয়।
এ ধরণের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।
এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সরেজমিনে  তদন্তে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তদন্ত শেষে ইউএনও জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দূঃখজনক। ওই প্রতিবন্ধি নারীর দুটি সন্তান রয়েছে। ইতিমধ্যে মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন। ছেলেও বিয়ের যোগ্য হয়েছেন। তিনি আরো জানান,  স্বামী প্রতিবন্ধির স্ত্রীর কোন খোঁজ খবর নেন না। সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রতিবেশির মাধ্যমে  কুড়িগ্রামের এক নিঃসন্তান দম্পতিকে শিশুটিকে দত্তক দিয়েছেন। বিনিময়ে তাকে ওই দম্পতি মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে সন্তান দত্তক দেয়ার বিষয়ে পূর্বে থেকে তাদের যোগসুত্র ছিল বলে এ কর্মকর্তা দাবী করেন।
 তিনি আরো বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ ওই প্রতিবন্ধি নারীকে আর্থিক সহায়তা, সরকারি একটি বাড়ি ও প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
ইতিবাচক লালমনি- এর অন্যান্য খবর