পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতীয় বিএসএয়ের কাছে এক কিশোরকে উদ্ধার করে ফিরত পাঠিয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার: জেলার সদরের মোগলহাট সীমান্তের ভারতীয়  কিশোর পাপু (১৭) কে গত ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮ টায় বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার পর্যয়ে বৈঠক করে ফিরত পাঠিয়েছে। এই ঘটনাকে দুই দেশের সীমান্ত গ্রামের মানুষ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে। বিজিবির প্রশংসার পঞ্চমুখ ভারতীয়  গ্রামবাসীরা।
গত ৮ ১০ অক্টোবর বিকালে মোগলহাট সীমান্তের মোগলহাট বাজারে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে ভারতীয়  কুচবিহার জেলার দিনহাট থানার গিদালদহের জারিধরলা গ্রামের বাবুলের (জোতারু) ছেলে কিশোর পাপু (১৭)। এই কিশোর পাপ্পু এর আগে শীতের মৌসুমে  মোগলহাট বাজারের এক ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ীর দোকান হতে একটি দামী সাউন্ড বক্স ভাড়ার কথা বলে নিয়ে যায়। কিন্তু সাউন্ড বক্সটি ব্যবসায়ীকে ফেরত দেয়নি। তখন হতে কিশোর পাপ্পু  বাংলাদেশের মোগলহাটে আসা বন্ধ করে দিয়ে ছিল। ১০ অক্টোবর পূণরায় মোগলহাট বাজারের এলে সাউন্ড বক্স ব্যবসায়ী ভাড়ায় নেয়া সাউন্ড বক্সটি ফেরত পেতে পাপ্পুকে বাড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে জিম্মী করে রাখে। সেই সাথে তিনি সাউন্ড বক্স ফেরতের বিনিময়ে পাপ্পুকে ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দেয়। ভারতীয় গ্রামে পাপ্পুর স্বজনরা বিষয়টি বাংলাদেশি গ্রামের তাদের স্বজনকে জানায়। এক পর্যায়ে মোগলহাট ১৫ বিজিবি’র কোম্পানি কমান্ডার বিষয়টি জেনে যায়। তিনি দ্রুত সাউন্ড বক্স ব্যবসায়ীর বাড়ি হতে কিশোরটিকে উদ্ধার করে বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে আপ্যায়িত করে ভারতীয় বিএসএফ ক্যাম্পে ভারতীয় কিশোরকে উদ্ধার করে নিরাপদের আছে বলে জানান। তাঁকে ফিরিয়ে দিতে সীমান্তে তাৎক্ষনিক পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ভারতীয় বিএসএফ বাহিনী পতাকা বৈঠকের প্রস্তাবে জবাব দিতে বিলম্ব করে। ফলে ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮ টায় মোগলহাট সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক করে ভারতীয় কিশোরকে বিএসএফের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠায়। এই ঘটনায় ভারতীয় সীমান্ত গ্রামে বিজিবি’র প্রশংসার পঞ্চমুখ। অনেকে বলেছে যেখানে ভারতীয় সীমান্তে বাংলাদেশিকে দেখামাত্র গুলি করে হত্যা করা হয়। কেউ ভূলক্রমে ভারতে চলে গেলে তাকে ভারতীয়রা ধরে বিএসএফের কাছে তুলে দেয়। বিএসএফ বাংলাদেশিদের অকথ্য নির্যাতন করে। তারপর তাকে ভারতীয়  পুলিশের কাছে তুলে দেয়। বিচারে সাজা ভোগ করে তবেই বাংলাদেশিকে ফেরত দেয়। সেই ফেরত প্রক্রিয়া মানবাধিকার সংগঠনকে করতে হয় নানা তদবির। সেই  মুর্হুতে বাংলাদেশের বিজিবি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত দেখিয়ে মানবিক কারণে স্বেচ্ছায় বিএসএফের কাছে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে কিশোরকে তুলে দিলেন।
মোগলহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে রয়েছে। তাই বিজিবি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখেছে।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর