লালমনিরহাটে কিশোরীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে গণধর্ষণে গ্রেফতার ১
জাহাঙ্গীর আলম শাহীন: জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীবাহি ট্রেনের এক কিশোরীকে বাড়ি পৌঁচ্ছে দেয়ার কথা বলে কয়েক বখাটে ৩ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করেছে। এই ঘটনায় ১০ অক্টোবর গণধর্ষণ ঘটনার মূলহোতা রকি (২৩) কে পুলিশ আটক করেছে। এই ঘটনায় গ্রাম্য টাউটরা শালিস বৈঠকের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ধর্ষিতা কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে একা বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। ধর্ষকরা পূনরায় পিছু নিলে কিশোরী কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়। পরে সংবাদ কর্মীদের হস্তক্ষেপে কালীগঞ্জ পুলিশ কিশোরীকে তাদের আশ্রয়ে নিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। এই ধর্ষণের ঘটনায় জেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিক, থানা পুলিশ ও ভুক্তোভোগী কিশোরী সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব গণ ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে পূণরায় গণধর্ষনের হাত হতে বাঁচাতে দৌড়ে এসে প্রেস ক্লাবে আশ্রয় নেয়। উপস্থিত সংবাদ কর্মীদের কিশোরী তাঁর ওপর নির্মম পৈশাচিক গণ ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেয়। এ সময় উপস্থিত সংবাদ কর্মীরা চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। তারা ন্যায় বিচার পেতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ধর্ষিতা কিশোরীকে হেফাজতে নিয়ে অভিযানে বাহির হয়। এসময় কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে গণধর্ষণের ঘটনায় নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে আসে তাঁকে ৩ দিন ধরে আটকে রেখে কয়েক জনে কয়েক দফা পৈশাচিক ভাবে গণ ধর্ষণ করে। এই গণ ধর্ষণের ঘটনায় কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র আওলাদ হোসেন (৪৭), একই গ্রামের মজির পুত্র নরু (৩৭), একই গ্রামের হবির পুত্র মোরশেদ (২৭), একই গ্রামের মতুবরের পুত্র রঞ্জু ((২৮), একই গ্রামের রজব আলীর পুত্র (মূলহোতা) রকি (২৩), একই উপজেলার তালুক বাণীনগর গ্রামের মৃত সৈয়দের পুত্র গোলজার হোসেন (২৮) ও  একই উপজেলার তালুক বানী নগর গ্রামের মৃত ওসমান গণির পুত্র এরশাদুল (২৭) কে আসামী করে গণ ধর্ষনে জড়িত থাকায় আজ শনিবার সকালে মামলা দায়ের হয়েছে।  
জানা গেছে, রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর গ্রামের কিশোরী কন্যা তার বাবার সাথে মামা ও কালার বাড়িতে বেরাতে আসে। গত ৬ অক্টোবর ট্রেন যোগে বাড়ি ফেরার পথে কাকিনা রেল ষ্টেশনে সন্ধ্যায ট্রেন বিলম্ব করে। এসময় কিছু কেতে ট্রেন হতে নামে। সেখানে রকি নামের এক যুবকের সাথে তার পরিচয় হয়। আলাপচারিতায় ছেলেটি তাকে জানায় তার বাড়ি মধুপুরে। সুকৌশলে ট্রেনটিতে উঠতে দেয়নি। তখন সে কান্নাকাটি শুরু করে। ছেলেটি অটোরিক্সা যোগে কাউনিয়ার টেপামধুর পৌচ্ছে দেয়ার কথা বলে অটোরিক্সা তুলে। পরে তাঁকে গ্রামের নানা পথ ঘুরিয়ে নির্জন সেচপাম্পের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে সেখানে তার কয়েক বন্ধু সারারাত ধরে কয়েক দফা  পৈশাচিক ভাবে গণধর্ষণ করে। নিজেকে বাঁচাতে হাত পা ধরেও রক্ষা করতে পারেনি। মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাকে অন্য গোপন স্থানে আটকে রেখে পালাক্রমে ৩ দিনে কয়েক বার ধর্ষণ করে। বিষয়টি ধর্ষণকরীদের মাধ্যমে কয়েকজন জেনে যায়। মেয়েটির আশ্রয় মিলে স্থানীয় এক  গ্রাম পুলিশ সদস্যের বাড়িতে। সেখানে গত ৮ অক্টোবর রাতে গণ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য কয়েক টাউট শালিস বৈঠক বসায়। ধর্ষণকারীদের শনাক্ত করে। মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ হতে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। পরে শুক্রবার  কিশোরীকে পথ খরচের জন্য মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বলে। মেয়েটি কে হুমকি ধামকি দেয়া হয়। কিশোরী মেয়েটি বাড়ি পথে রওনা দিলে ধর্ষকরা পূনরায় তার পিছু নেয়। কিশোরী মেয়েটি নিজেদের ধর্ষকদের হাত হতে পূনরায় নিজেকে বাঁচাতে স্থানীয় মানুষের সহায়তা চায়। কিশোরী প্রেসক্লাব লিখা দেখে শুক্রবার বিকালে দৌড়ে  কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়। পরে সংবাদ কর্মীদের হস্তক্ষেপে ধর্ষিতা কিশোরীটিকে থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত ) ফরহাদ হোসেন জানান, গণধর্ষণে জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে। কিশোরী কন্যাকে মেডিক্যাল টেষ্ট করতে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের সাথে জড়িত মূলহোতাকে আটক করা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। এই পৈচাশিক ঘটনায় কেউ চাড় পাবে না। এই ঘটনায় ১০ অক্টোবর সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।


জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর