দেশরত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন
সফুরা বেগম রুমী : আমি এক মহিয়সী নারী সম্পর্কে লিখতে বসেছি তাঁর সমন্ধে অল্প কথায় লিখা কিংবা তাঁর কর্মকান্ড বর্ণনা করার সাহস আমার নাই। কারণ তিনি যে অনন্য এক মহিয়সী নারী। বাংলাদেশের ইতিহাস। তাঁর জন্মদিনে শত কোটি লাল গোলাপের শুভেচ্ছা বিনম্র শ্রদ্ধা। ১৯৪৭ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া নামক গ্রামে শস্য শ্যামলা ছায়াঘেরা মনোরম পরিবেশে এক ফুটফুটে কন্যা শিশুর জন্ম হয় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর কোল জুড়ে। সেদিন নিশ্চয় আনন্দের বন্যা জোসনা স্নাত সন্ধ্যাকে হার মানিয়েছিল। সেই কন্যা শিশুটি সৌভাগ্যের বাতি বয়ে আনবে বাংলার মানুষের জন্য কে ভেবেছিল।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আদরের হাসু আলোর বার্তা নিয়ে আসবেন হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তো তাঁর লেখা থেকে আমরা জানতে পারি তিনি বলেছিলেন ৫২’র ভাষা আন্দোলন তুঙ্গে বঙ্গবন্ধু বাড়িতে এসেছেন ৫ বছরের শিশু কন্যা হাসু বাবার গলা ধরে বলেছিলেন...
‘বাবা রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই
রাজ বন্দীদের মুক্তি চাই’
বঙ্গবন্ধু হয়ত সেদিনিই বুঝতে পেরেছিলেন এই শিশু কন্যাই বাংলার দুঃখী অসহায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে এগিয়ে আসবেন। রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হওয়ার সাথে সাথে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে দেখা ও শেখা মায়া মমতা ভালোবাসা ত্যাগ, সহমর্মিতা সহানুভূতি ভাল মন্দের সমন্বয় করে নেয়া শিখেছেন আমাদের এই মহিয়সী নারী। তিনি আর কেউ নয় আমাদের প্রিয় আস্থার জায়গা ১৬ কোটি মানুষের আশ্রয়স্থল মমতাময়ী Mother Of Humanity(মানবতার মা) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বাল্যকাল হতে লেখাপড়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু আদর্শ নীতি নিয়ে বড় হওয়া ছাত্র রাজনীতি থেকে আজকের প্রধানমন্ত্রী। শুনেছিলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাকি অস্বাভাবিক স্মরণ শক্তি ছিল। তাঁকে দেখার আমার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু আমি আমার প্রিয় নেত্রীর মাঝে দেখেছি সেই অস্বাভাবিক স্মরণ শক্তি।
আমি তৃণমূল পর্যায়ে ছোট একটি জেলায় রাজনীতি করার সুবাদে, যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সান্নিধ্যে এসেছি তিনি আমার নাম ধরে ডেকেছেন, স্নেহ ভরে কথা বলেছেন, পরম মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে, মিষ্টি করে হেসে কথা বলে দুষ্টামির হাসি দিয়ে, কথা বলেছেন। আমি হতভম্ব হয়েছি বার বার। আমি কাকে দেখছি তিনি কি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেন। তাঁর দুরদর্শিতা সাহসিকতা, প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, সহিষ্ণুতা, মায়ামমতা নিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এর পর বাবা, মা, ভাই, পরম আত্মীয়দের হারিয়ে হাহাকার হৃদয় নিয়ে ছয় বৎসর নির্বাসনের পর নতুনভাবে আবিভূত হন আমাদের মমতাময়ী নারী ১৯৮১ সালে ১৭ মে। নিজে আশ্রয়হীন, থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, সেদিকে খেয়াল না করে বাংলার মানুষকে ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। বাংলার মানুষের জন্য তাঁর প্রান কাঁদে। কিসে তাদের ভালো করা যায়। তাই জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ভাষায় বলতে চাই-
‘শুধু মাতা নহ,
জগম্মাতার আসনে বসেছ তুমি-
সেই গৌরবে জননী আমার,
তোমার চরন চুমি’।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দারিদ্র ক্লিষ্ট জাতিকে মুক্তি দিতে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র ন্যায় বিচার প্রতিষ্টাসহ ক্ষুধা, দারিদ্র, নিরক্ষরতা মুক্ত সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিরামহীন যাত্রা শুরু করেন। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন, নদী ভাঙ্গন, প্রকৃতির বিভৎস তান্ডব তাঁকে ঘরে রাখতে পারে নাই। হতভাগ্য মানুষকে শান্তনা দেয়ার জন্য ছুটে বেড়ান তিনি।
অবিরাম গতি তাঁর। সেই দেশ প্রেমিক মানুষটি শক্ত হাতে দল ও সরকারে সমান ভাবে সততার সাথে ধর্য্য শৌর্য, বুদ্দিমত্তা, সাহসিকতা দিয়ে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় যখন তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শুধু তাই নয় একটার পর একটা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে রূপান্তরিত করেছেন। বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময়, যেটা বাংলাদেশকে অন্য রকম উচ্চতায় পৌছায়েছেন। তাঁর প্রজ্ঞা দুরদর্শিতার ফলে বাংলাদেশে আজ-
* পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প * মেট্রোরেল প্রকল্প * রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প * মাতার বাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান প্রকল্প * এম.এন.জি টার্মিনাল নির্মান প্রকল্প * কয়লা ভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান প্রকল্প
* পায়রা বন্দর নির্মান প্রকল্প * সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মান প্রকল্প এর মত মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে।
তাঁর এই অদম্য পথ চলা আন্তর্জাতিক বিশ্ব বুঝতে পেরেছে তাই তো বিশ্ব ভারতী থেকে বঙ্গকন্যাকে সম্মান সূচক ডি.লিট উপাধি দেওয়া হয়। (ধরিত্রীর মধ্যে শ্রেষ্ট)।
* ইন্দিরা গান্ধি স্বর্ণ পদক (২০০৯) * পার্বত্য শন্তি চুক্তির জন্য ইউনেস্কো কর্তৃক হুপে বোয়ামি পুরষ্কার (২০১০) * জাতিসংঘ কর্তৃক মিলিয়নিয়াম ডেপলপমেন্ট গোল্ড ২০১০
আরব আমিরাতের বহুল প্রচারিত ‘খালিজ টাইমস’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পূর্বদেশের নতুন তারকা (New Star East) অভিধায় ভূষিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সাময়িক ফোরর্স বিশ্বের ত্রিশ জন ক্ষমতাধর রাষ্ট্র প্রধানের তালিকায় নেত্রীর নাম স্থান দিয়েছেন। লোভ-লালসার উর্ধ্বে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের অনেক নাম করা রাষ্ট্র প্রধান যখন অর্থ পাচারের অভিযুক্ত তখন শেখ হাসিনাকে ‘পিপলস এন্ড পলিটিক্স’ নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বের ৩য় সৎ রাষ্ট্র প্রধান ও সৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে আখ্যায়িত করেন। দেশরত্ন জননেত্রেী দেশের মানুষের সেবাদান ও তাদের শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা খাদ্যসহ মৌলিক চাহিদা গুলো পুরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাইতো তিনি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মানবতার জননী (Mother Of Humanity) ।
নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ রোল মডেল। বাংলাদেশে নারী স্পীকার কোন দিনও ছিল না। পদ ফাঁকা থাকা সত্বেও নারীকে সচিব পদে দেখা যায় নাই। হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্টে কোন নারী বিচারপতি ছিল না। ডিসি, এসপি ছিল না বলেই চলে। তৃণমূল পর্যায়ে ভোটের মাধ্যমে নারীর প্রতিনিধিত্ব ছিল না সব কিছুর আমূল পরিবর্তন এনেছেন আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রী নারীর জাগরনের অগ্রদূত ও আস্থার জায়গা শেখ হাসিনা।
নারী নেতৃত্বে সফলতায় ‘গ্লোবাল সামিট অন উইমেন’ স্বীকৃতি স্বরূপ ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড দেয়। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘লাইফ টাইম কন্টিবিউশন ফর উইমেন এ্যামপাওয়ার মেন্ট’ অ্যাওয়ার্ড দেয়। তাছাড়া শিশু মৃত্যুর  হার হ্রাসে অবদান রাখার জন্য ‘ইনষ্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন’ জাতিসংঘের এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। নারী শিক্ষা প্রসারে অবদানের জন্য ‘ট্রি অব পিস’ পুরুস্কার লাভ করেন। তাছাড়া ক্ষুধা দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবদানের জন্য দুই দুইবার ‘সাউথ সাউথ’ এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ পুরুস্কার ও ‘প্লানেট ৫০-৫০’ চ্যাম্পিয়ান প্রদান করেন। বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের উপর প্রভাব এর অবদান রাখার জন্য ‘চ্যাম্পিয়ন অব আর্থ’ পুরুস্কারে ভূষিত হন। বঙ্গকন্যার কাজের সফলতার জন্য জাতিসংঘ থেকে বড় বড় রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জাপান, বেলজিয়াম ও আরব আমিরাতের মত রাষ্ট্র এবং ইউনেস্কো ইউনিসেফ এর মত সংস্থা সমূহ স্বীকৃতি স্বরূপ এ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। শুধু তাই না বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ মাননীয় প্রধঅনমন্ত্রীকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেন। এত গেল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান।
কিন্তু বাংলার মানুষ বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে রেখেছেন অন্তরের অন্তস্থলে। তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষ অকৃত্রিম ভালোবাসায় আবদ্ধ করেছেন তাকে। তাদের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘হামার ছাওয়াল, শেখের বেটি, বাংলার বোন, আমাদের আপা, আবার কারো কাছে হাসিনা আপা’ এ শুধু একজন মানুষকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসলে বলা যায়। তাই আবারো জাতীয় কবির ভাষায় বলতে হয়-
‘সকলের তুমি সেবা করে গেলে,
নিলে না কারোর সেবা,
আলোক সবারে আলো দেয়,
দেয় আলোকেরে আলো কেবা’।
সর্বশেষে বলতে চাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনা একটি নাম, একটি ইতিহাস, সফল রাষ্ট্র নায়ক, গ্লোবাল লিডার (Global Leader) বাংলাদেশের অহংকার। মহান সৃষ্টিকর্তা যুগ যুগ ধরে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখুক এই প্রত্যাশায়-
কবি সৈয়দ শামসুল হক এর কবিতার ভাষায় বলতে চাই-
আহা, আজ কী আনন্দ অপার
শুভ শুভ জন্মদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনার
জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু স্বপ্নবাহ তার
শুভ শুভ জন্মদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনার।
লেখক : অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী (সাবেক এম.পি), সদস্য, কার্য নিবার্হী সংসদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সভাপতি, জেলা আইনজীবী সমিতি, লালমনিরহাট।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর