আদিতমারীতে বাঁধ কেটেই বাঁধ রক্ষার চেষ্টা!
স্টাফ রিপোর্টার: বাঁধ কেটে সেই বাঁধের বালু জিও ব্যাগে ভরাট করে নদীতে ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ । ফলে ঝুঁকিতে থেকেই যাচ্ছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সলেডি স্পার-২ বাঁধটি। আবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশেই তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বামতীর রক্ষা বাঁধটি ভরার করা হচ্ছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী অন্য জায়গা থেকে বালু এনে এসব বালু জিও ব্যাগে ভরাট করবেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।  কিন্তু এসব নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করেই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। আর তিস্তা নদী থেকে একের পর এক অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙ্গনের মুল কারণ বলে এলাকাবাসী দাবী করেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর)  সকালে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সলেডি স্পার-২ গিয়ে দেখা গেছে, স্পারটির প্রায় ৫ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি অংশ তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুক্রবার ভোর রাতে আবারও ওই বাঁধে প্রচন্ড পানির আঘাতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। পরে মসজিদের মাইকে ভাঙ্গনের খবরট প্রচার করা হয়। দ্রুত এলাকাবাসী ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। তারা দ্রুত জিও ব্যাগের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান। সকাল থেকে জিও ব্যাগে বালু ভরাট করে নদীতে ফেলা হচ্ছে।
এদিকে নিয়ম অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড অন্য জায়গা থেকে বালু এনে জিও ব্যাগে ভরাট করে বাঁধ রক্ষা করার কথা। কিন্তু তারা তা না করে  সলেডি স্পার-২ বাঁধের দক্ষিণ অংশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এসব বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বাঁধের কাটা অংশ আর কাটা অংশ থেকে বালু কেটে বস্তায় ভরানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে একাধিক এলাকাবাসী দাবী করে বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর গতি পথ পরিবর্তন হয়ে একের পর এক বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা আরো বলেন, এখন পর্যন্ত ৪ শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে আরোও ২টি গ্রাম।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সলেডি স্পার-২ বাঁধটির ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় পরিদর্শন এসে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অন্য জায়গা থেকে বালু এনে নদীতে ফেলার জন্য বলেছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ তা মানছেন না বলে তিনি দাবী করেন। তিনি আরো বলেন, সলেডি স্পার-২ বাঁধটিতে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় হুমকির মুখে রয়েছেন কয়েক হাজার পরিবার।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, নদী থেকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে। আর এ কারণে সলেডি স্পার-২ বাঁধটির একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।     
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের  বলেন, কাজের প্রয়োজনে যে কোন জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করার অনুমতি আমাদের রয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। 
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর