বাল্য বিয়ের অপরাধে বরের ৫ হাজার টাকা জরিমানা : কাজীর ৬ মাসের জেল
শেখ আবদুল আলিম: নবম শ্রেনির ছাত্রীকে বিয়ে করার অপরাধে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র আশরাফুল ইসলাম (২১)কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এ বিয়ে রেজিস্ট্রি করার অপরাধে কাজী মোঃ আবু হানিফকে ৬ মাােসর জেল দিয়েছে একই আদালত।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সোনারহাট এলাকার আশরাফুল ইসলাম একই উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের বড়দিঘীরপাড়ের মোঃ সামছুল হকে নবম শ্রেণি পড়–য়া মেয়েকে বিয়ে করতে এসেছিলেন।
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সংবাদ পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার,নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  মোঃ রবিউল হাসান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল বড়দিঘী এলাকায় পৌছেন। বাল্যবিয়ে রেজিস্ট্রি করার অপরাধে দলগ্রাম ইউনিয়নের কাজী মোঃ আবু হানিফকে ৬ মাসের বিনাশ্রম জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। বাল্য বিয়ে করার অপরাধে বর মোঃ আশরাফুলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে মুসিলেখা নিয়ে ছেড়ে দেন। মেয়ের বাবাকে পাওয়া যায়নি।
ইতোঃপূবের্, ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর ৮ম শ্রেনীর ছাত্রীর বাল্যবিয়ে রেজিষ্ট্রির অপরাধে কাজী আবু হানিফকে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করেছিলেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম রাব্বী। তিনি আবু হানিফের নিকাহ রেজিষ্ট্রার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ পাঠিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষের নিকট।
কিন্তু, রহস্যজনক ভাবে সেই চিঠি আজ অবধি লাল ফিতায় বন্দি আছে লালমনিরহাট জেলা রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে।
কাজী আবু হানিফ বাল্য বিয়ে বিরুদ্ধে অহরহই শুনাযায় বাল্য বিয়ে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ। অভিনব কৌশলে বাল্য বিয়ে রেজিস্ট্রি করে থাকেন। তথ্যমতে কাজী আবু হানিফ নিবন্ধন বইয়ের বিকল্প বইয়ে বয়স উল্লেখ না করে বর ও কনের যাবতীয় তথ্য সেখানে লিপিবদ্ধ করেন। পরে বর ও কনের নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হলে এসব তথ্য মূল ভলিয়মে নিবন্ধন করেন। আর এর জন্য নির্ধারিত ফিসের দ্বিগুণ , ক্ষেত্র বিশেষ তারও বেশী আদায় করে থাকেন। এ সব বিয়ে অধিকাংশই বয়স পূর্ন হতে না হতেই বিচ্ছেদ ঘটে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের চাইল্ড সেনসিটিভ সোস্যাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ (সিএসপিবি) শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী মোঃ আবু সাঈদ জানান, ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতিতে মেয়েটি যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক তাই উভয় দিক বিবেচনা করে বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে যেন স্বামীর ঘরে পাঠানো না হয় সে জন্য কনের চাচার কাছে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান ঘটনার সতত্য নিশ্চিত করে বলেন, এ উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করতে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


এক নজরে- এর অন্যান্য খবর