বাল্য বিবাহ দেয়ার পরিনাম হচ্ছে একটি মেয়ে শিশুকে হত্যা করা- জেলা প্রশাসক
স্টাফ রিপোর্টার: জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর বলেছেন, বাল্য বিবাহ দেয়ার পরিনাম হচ্ছে একটি মেয়ে শিশুকে হত্যা করা। বাল্য বিবাহ বন্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার অফিসার ইনর্চাজ. ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য ও সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। কোন অবস্থায় এই সকল কর্মকর্তা ও নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি বাল্য বিবাহের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাবেন না।
তিনি ৯ সেপ্টেম্বর সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্স (এনসিটিএফ) ও ইয়েস বাংলাদেশ লালমনিরহাট শাখা কর্তৃক আয়োজিত ওয়াই মুভস প্রকপ্লের অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাল্য বিবাহ দেয়া আমাদের মানষিক সমস্যা। এ সমস্যা দুরীকরনে পুরো জনগোষ্টীকে সচেতন করতে হবে। বাল্য বিবাহ যেহেতু একটি শাস্তি যোগ্য অপরাধ, তাই এই অপরাধ দমনে কোন প্রকার ছাড় দেয়া ও মুচালেকা নেয়া কিংবা সৌথিল্য প্রদর্শন কাম্য হতে পারে না।
তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দেন, যদি কোন বিবাহ রেজিষ্ট্রার (কাজী) বাল্য বিবাহ রেজিষ্ট্রার করেন কিংবা বাল্য বিবাহের সাথে জড়িত থাকেন তার লাইসেন্স বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লালমনিরহাট বার্তার সম্পাদক গেরিলা লিডার ড. এস.এম. শফিকুল ইসলাম কানু, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও কবি ফেরদৌসী বেগম বিউটি, জেলা পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ডিবি পরিদর্শক ওমর ফারুক। বক্তব্য রাখেন বত্রিশহাজারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মহসিনা বেগম মিনা, বৈশাখী টেলিভিশন এর জেলা প্রতিনিধি তৈহিদুল ইসলাম লিটন, এনসিটিএফ কেন্দ্রিয় কমিটির ভলান্টিয়ার রেজওয়ানুল হক নুরুন্নবী, জেলা ভলান্টিয়ার রায়হান হোসেন রনী, জেলা সাবেক সভাপতি ও শিশু দর্পন পত্রিকার সম্পাদক তাহ্ হিয়াতুল হাবীব মৃদুল, তারুণ্যের আলো সমাজ কল্যাণ সংস্থা‘র সভাপতি শহিদ ইসলাম সুজন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন এনসিটিএফ এর সাবেক সদস্য ইবনে কায়েস শান্ত।
এনসিটিএফ এর প্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের সংগঠন ইয়েস বাংলাদেশ এবং একটি জাতীয় সংগঠন ১৩টি স্থানীয় সংগঠন, ৪টি যুব সংগঠন, ৬৪টি জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।
এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে শিশুদের বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের অংশগ্রহণ, সুরক্ষা, যৌন প্রজনন স্বাস্থ্যের অধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর