আদিতমারীতে আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা
মোঃ সুলতান হোসেন: সবজি খ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এখানকার কৃষকরা আগাম সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। এখানকার অধিকাংশ কৃষকরা সবজি চাষের উপর নির্ভরশীল। আবার অনেকেই সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এখানকার কৃষকরা সবজির নামকরনে পরিচিত। তাই এখানকার কৃষকরা ধান চাষের পরিবর্তে সবজি চাষে বেশি আগ্রহী।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানাগেছে এ অঞ্চলের সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করা হচ্ছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২৮টি গ্রামের মানুষই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এখানকার মানুষের প্রধান উৎপাদনকারী ফসল ছিল ধান, গম, পাট। কিন্তু বিগত কয়েক বছর এসব ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের সফল সবজি চাষী ইউনুস থেকে হয়েছেন পেঁপে ইউনুস, মতিন হয়েছেন করলা মতিন,ক্ষীতিষ হয়েছে লাউ ক্ষীতিষ। আসলে এসব তাদের সবজির নামকরণের উপাধি।
বর্তমানে এখানকার কৃষকরা বিকল্প ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছে সবজির চাষাবাদ। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি বিভাগের লোকজন এরই মধ্যে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিকভাবে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সবধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, এখানে দিগন্ত জুড়ে সবুজের সমারোহ। এখানে চাষ করা হচ্ছে ফুল কপি,বাঁধা কপি, বেগুণ, মূলা,লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, লাউশাক,শসা,করলা, বরবটিসহ সকল ধরনের সবজি। আবার অনেকেই অন্যের জমি বর্গা নিয়ে শাক-সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আবার সবজির টাকায় অনেকের ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন।

জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সারা গ্রাম জুড়ে শুধুই সবজির আবাদ। খামার-খেতে ব্যস্ত কিষান-কিষানীরা। এখানকার সবজি চাষিরা জানান, তারা বরাবরই শাক-সবজি চাষ করে আসছেন। এতে তারা সফলও। তাদের মতামত, সরকারি সংশ্লি­ষ্ট সংস্থাগুলো যদি তাদের চাষকৃত শাক-সবজির উত্পাদন বাড়াতে আর একটু সতর্ক নজর রাখে তাহলে আরো সফল ও লাভবান হওয়া সম্ভব।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এম এম জামান শাহীন জানান, এবছর রবি মৌসুমে ১১৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান,এখন পর্যন্ত ৩৫৬ হেক্টর জমিতে সবজির চাষাবাদ হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি দাবী করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আলীনুর রহমান বলেন, সবজিখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত এ উপজেল।  তিনি আরো বলেন, এখানকার মাটি কৃষিচাষের জন্য উপযোগি। উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক পরামর্শে ব্যাপকহারে সবজির চাষাবাদ হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন। 
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর