নয়ন ফিরলেন লাশ হয়ে!
স্টাফ রিপোর্টার: শুক্রবার নারায়ণগঞ্জে এসি বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের  দিনমজুর মেহের আলীর বড় ছেলে শুকুর আলী নয়ন (২৭)।
নয়ন সেখানে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। ইচ্ছে ছিল এবার গ্রামে এসে ব্যবসা শুরু করবেন কিন্তু তার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ী রবিবার ভোরে ফিরলেন লাশ হয়ে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তার বন্ধু শুভ শামীম বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় আমাদের গার্মেন্টস ছুটি হয়। নয়ন বাসায় ফিরে নামাজ পড়তে মসজিদে এসেছিল। নামাজ পড়ে সে ফিরলে আমাদের একসাথে রাতের খাবার খাওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ শুনলাম বিস্ফোরণ, মসজিদে আগুন লাগছে। গিয়ে দেখি লোকে লোকারণ্য। আমরা ওই মসজিদের মেসেই থাকি। তাকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে অবাক হই, ভয় পেয়ে যাই। ওখানে না পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসি। সেখানে ওর লাশ ও মোবাইলটি পাই। এরপর ওর বাড়িতে কথা হয়। ওর ভগ্নিপতি ও মা শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় পৌঁছালে লাশ বুঝে পান।

এদিকে নয়নের গ্রামের বাড়ি আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের তালুক পলাশী এলাকার প্রতিবেশী যুবক খাদিমুল ইসলাম (৩০) বলেন, ‘ওদের ভিটেমাটি কিছুই ছিল না। ওরা সবাই নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টে কাজ করত। কিছুদিন আগে বোনকে বিয়ে দিয়েছে। এলাকায় এক দোনের মতো জমি কিনে সেখানে নতুন কাঁচা একটি বাড়ি তৈরি করেছেন। সেখানে মা-বাবা ও দুই ভাইকে পাঠিয়েছে। কিছুদিন পর নয়নের আসার কথা ছিল। এরপর বিয়ে করে এলাকায় কিছু একটা করার কথা বলেছিল। কিন্তু তার আশা পূরণ হলো না। বাড়ি আসলো ঠিকই কিন্তু, লাশ হয়ে। ঘটনাটি মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।
নয়নের বাবা মেহের আলী, দুই ছেলে ও মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। প্রতিবেশীরা কেবল সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নয়নের পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর