গ্রাম্য শালিসে হেয় করায় লালমনিরহাটে ফেরিওয়ালার আত্মহত্যা
স্টাফ রিপোর্টার: লালমনিরহাট জেলা  শহরের বানভাসার মোড় বটতলা আব্দুল মতিন (৪০) নামে ওই ফেরিওয়ালার ঝুলন্ত মর দেহ বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ উদ্ধার করে পোষ্ট মডেম করতে পাঠায় পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুর ২ টায় নিহতের লাশ পোষ্ট মডেম শেষে ছেলে মোমিনকে বুঝিয়ে দিয়েছে থানা পুলিশ।
এই ঘটনায় আজ শুক্রবার মহল্লায় মানুষের মুখে মুখে শ^াশুড়ি ও স্ত্রীর গ্রামের মাতব্বর শ্রেনির মানুষদের নিয়ে বুধবার জামাই মতিনের বিচার করে ছিল। এই গ্রাম্য বিচারে তাকে হেয় করা হয়। লোকলজ্জায় সে আত্মহত্যা করেছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল মতিন সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ঢটগাছ গ্রামের জয়নালের ছেলে। সে শহরের বানভাসা মোড়ের বটতলায় স্ত্রী ছালমা ও শ^াশুড়ি জহিরন রেওয়া কে সাথে নিয়ে শ^শুড়ের রেখে যাওয়া বাড়িতে ঘর জামাই থাকতেন। সে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে চট্রগ্রামে দীর্ঘদিন ছিলেন। করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় চট্রগ্রাম হতে কয়েক মাস পূর্বে এসে লালমনিরহাটে স্ত্রী, সন্তান ও শ^াশুড়ির সাথে বসবাস করে আসছিলেন। ফেরি করে চলছিল সংসার। বানভাসা মোড়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আড্ডা বসিয়ে আসছিল। অভিযোগ আছে বানভাসা কমুনিটিং পুৃলিশের ১টি অফিস আছে । তার পাশেই চলে আসছে জুলা। এখানে ১টি প্রভাবশালীর  ছত্রচায়ায় এই জুয়ার আড্ডা চলে আসছে। প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয়। দুরদুরান্ত হতে মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রোবাসে চেপে এখানে জুলা খেলতে আসে।
ঈদের দিন রাতে সখের বসে  ফেরিওলা আব্দুল মতিন সেখানে জুয়া খেলে। জুয়ায় তার জমানো অর্থ ও ব্যবসার মূল তহবিল খোযা যায়। এই নিয়ে পরদিন স্ত্রী ও শ^াশুড়ির সাথে বাকবিতন্ডা হয়। তার জের ধরে ৫ আগষ্ট রাতে শ^াশুড়ি জহিরণের প্ররোচনায় ঘর জামাই আব্দুল মতিনের বিচার করে গ্রামের কয়েকজন। সেখানে তাকে হেয় করা হয়। এই ঘটনার জের ধরে স্ত্রী ও শ^াশুড়ির সাথে অভিমান ও বিচারে হেয় করায় লোকলজ্জায় সে আত্মহত্যা করেছে। তবে নিহেতের স্বজনরা এটাকে আতœহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ। নিহেতের বাবা ও ভাই অভিযোগ করেছে তাকে মেরে ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। লালমনিরহাট সদর থানার ওসি তদন্ত এরশাদুল ইসলাম জানান,  পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে করেছে। লাশ পোষ্ট মডেম করে পরিবারের হাতে হস্তান্তর করেছে। পোষ্টমডেম রির্পোট এলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।



এক নজরে- এর অন্যান্য খবর