ভিডিও কনফারেন্সে রংপুর বিআরটিএকে শোধরাতে বললেন সড়ক মন্ত্রী
রংপুর অফিস: রংপুর বিআরটিএকে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংশোধন না হলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।শুক্রবার রংপুর সড়ক জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএ এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘শেষ মুহূর্তের ঈদ প্রস্ততি’ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় তার এই হুঁশিয়ারি দেন। ঢাকায় নিজের সরকারি বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় সভায় যুক্ত হয়ে মন্ত্রী বলেন, রংপুর বিআরটিএতে অনিয়মের বিষয়ে কিছু কিছু পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে। আমার কাছে অভিযোগ আছে, বাইরের দালাল এবং বিআরটিএ এর কারো কারো সহযোগিতায় একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্র ভাঙতে হবে। বিআরটিএ এর সেবার মান বাড়াতে হবে। আমি সকলকে সতর্ক করছি, সংশোধন না হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিআরটিসিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানের রূপ দিতে সরকার এর বহরে এক হাজার বাস যুক্ত করেছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাঁচ শতাধিক ট্রাকও যুক্ত হয়েছে। তবুও প্রতিষ্ঠানটি এখনো লোকসানের আবর্তে। এখনও মাঝে মাঝে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অনিয়মের দুষ্টচক্র এই প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে বসেছে। আমি রংপুর অঞ্চলের সবাইকে সতর্ক করে বলছি, সেবার মান বাড়াবেন। অনিয়মের সকল পথ বন্ধ করুন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রশাসন আছে, মন্ত্রণালয় আছে, আমি নিজেও আছি।
এই মহামারীর দুর্যোগে সবাইকে কর্মস্থলে থাকার সরকারি নির্দেশনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কাদের বলেন, আপনারা নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে যার যার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। এবারের ঈদযাত্রা ভিন্ন বাস্তবতায়, একদিকে করোনা সংক্রমণ অন্যদিকে বন্যা। দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত। শুরুটা উত্তরাঞ্চলে হলেও এখন মধ্যাঞ্চলে এবং দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের অনেক সড়কে পানি উঠলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সড়ক যোগাযোগে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়নি। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেসব সড়ক সংষ্কারের কাজ শুরু করতে হবে।রংপুর এলাকার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নকে শেখ হাসিনার সরকার গুরুত্বের সাথে নিয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কয়েকটি সড়ক চার লেইনে উন্নীত করার প্রাথমিক প্রস্ততি শুরু হয়েছে। মহাসড়ক সার্বক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য, চলাচলযোগ্য রাখতে হবে। গর্ত হওয়ার সাথে সাথে মেরামত করতে হবে। কাজে কোনো প্রকার শিথিলতা দেখানো যাবে না। প্রয়োজনে ঈদের দিনেও কাজ করতে হবে, সড়কে থাকতে হবে।
সড়কের কাজের মান খারাপ হলে এখন থেকে ঠিকারদারদের পাশপাশি প্রকৌশলীদেরও জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহারে কোনোরূপ অপচয় করা যাবে না।
বিভাগীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর