রংপুরে তিস্তা নদীতে নৌকা ভ্রমণে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
রংপুর অফিস: রংপুরের তিস্তা নদীতে ফিটনেন্স বিহিন কাঠের তৈরী ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে নদী ভ্রমণের কারনে   দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিজ্ঞজনেরা।চলতি বর্ষা মৌসুমে পানিতে ভরে টৈই-টুম্বুর তিস্তানদী ফিরে পেয়েছে তার ¯্রােত হারা যৌবন।পাগলা নদীর দু কুল ভরা পানিতে বেড়েছে সৌন্দর্য। ফলে নানা শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতিসহ নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখোর হয়ে উঠেছে তিস্তা নদীর তীর। বিনোদন কেন্দ্র ও উদ্যানগুলো বন্ধ থাকায় বিনোদন পিপাসুরা বিনোদন পেতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে করছেন নৌকা ভ্রমণ। এইনৌকা ভ্রমণে সরকারী কোন বিধি নিষেধ না থাকায় যে কোন সময় নৌকা ডুবিতে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় বেক্সিমকোর তিস্তা সোলার পাওয়ার প্লান্ট নির্মিত হচ্ছে। এই এলাকা দুই উপজেলার মানুষ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। এছাড়া তিস্তা নদী সংলগ্ন বোল্ডারের মাথা নামকস্থানে বাড়ছে ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড়।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিনোদন ও ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় তিস্তার তীর মুখরিত হয়ে উঠেছে। বিনোদন পিপাসুরা তিস্তার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। অনেকে নদীর তীর ঘেঁষে বাঁধের আদলে তৈরি সড়ক দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ ইঞ্জিন চালিত ছোট নৌকা ভাড়া করে নদীতে ঘোরাঘুরি করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা ভ্রমণের ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকায় বেক্সিমকোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তিস্তা সোলার লিমিটেড দেশের সবচেয়ে বড় সোলার প্লান্ট নির্মাণ করছে। ২০০ মেগাওয়াটের এ প্রকল্পের নির্মাণ সম্পন্ন করতে দুই উপজেলার প্রায় এক হাজার একর জমি ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করে ভরাট করা হয়েছে। নির্মিতব্য পাওয়ার প্লান্টের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিতে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন সড়কপথ। এতে সোলার পাওয়ার প্লান্ট এলাকা থেকে পাওটানা হয়ে পীরগাছাসহ সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এরপর থেকেই তিস্তার সৌন্দর্য উপভোগে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে।
পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আসাদুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে তিস্তার তীর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় লোক সমাগম বাড়ছে।
ছাওলা এলাকার লাবলু মিয়া বলেন, অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ভাড়া করে নদীতে ঘোরা ঘুরি করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা ভ্রমণ বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে নেত্রকোনা হাওরের চেয়েও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
রেজাউল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী বলেন, দিনদিন লোক সমাগম বাড়লেও এখানে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে। ফলে পাওয়ার প্লান্ট এলাকায় বখাটেদের উৎপাত বেড়েছে।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর