লালমনিরহাটে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া তিন লাশের পরিচয় মিলেছে
জাহাঙ্গীর আলম শাহীন: লালমনিরহাটের তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদী থেকে শুক্রবারের উদ্ধার হওয়া ৩ টি লাশের পরিচয় মিলেছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) পুলিশ লাশ ৩টি পোষ্টমডেমের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা করেছে। তারা হলেন, ভারতের সুভাষ রায় (৩৫) ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার একরামুল(৩২), সদর উপজেলার মোশেদা বেগম (৩০)।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীর ধরলা নদীর ঘাটের পাড়ে শুক্রবার রাত ৯ টায় এক ভারতীয় যুবকের অর্ধালুঙ্গ লাশ ভেসে আসে। শনিবার লাশের ছবি ৬১ বিজিবি বুড়িমারী ক্যাম্পের মাধ্যমে ভারতীয় চ্যাংরাবান্ধা বিএসএফ ক্যাম্পে পাঠানো হয়। ছবি দেখে নিহেতে বড়ভাই সুভেন্দ্র রায় সনাক্ত করে ভেসে আসা লাশটি তার ছোট ভাই সুভাষ রায়ের। সে ধরলা নদীতে গোসল করতে গিয়ে ¯্রােতের টানে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে ছিল। তার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি থানার সুভাষ নগরে। পাটগ্রাম থানা পুলিশ পোষ্টমডেম ও সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজিবি’র মাধ্যমে শনিবার বিকাল ৫টায় বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে।
একই দিন রাত ৮.৩০ মিনিটে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের সানিয়াজান নদীর পাড়ে বালুর বাঁধের নির্জন এলাকায় বালু চাপা দেয়া অবস্থায় একরামুল (৩২) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে ছিলো পুলিশ। তাকে হত্যা করে বালু চাপা দেয়া হয়ে ছিল। মৃত্যের গায়ের সার্ট দিয়ে পা বাঁধা ছিল।
নিহতের স্ত্রী মুনিরা বেগম জানান, ৮দিন আগে দুপুর ১২টার দিকে একটি মোবাইল ফোন পেয়ে সে বাড়ি হতে বেরিয়ে যায়। তারপর হতে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা থানায় ৩দিন আগে নিখোঁজ ডাইরী করে ছিল। মৃত একরামুলের বাড়ি একই ইউনিয়নের রমনিগঞ্জ গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত ওয়াজ উদ্দিন। এ হত্যার ঘটনায় একই এলাকার সামীম (৩৫), নুর হাই (৪০) ও অজ্ঞাত নামা সবুজ (২৮) নামের তিন যুবকসহ কয়েক জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ কাউকে  এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি।
অন্যদিকে একই দিন সন্ধ্যায় তিস্তা নদীতে খুনিয়াগাছে অজ্ঞাত পরিচিত বোরকার পরিহিত নারীর লাশ ভেসে আসে। সেই নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে, তার নাম মাসুদা আক্তার(২৫)। ৩/৪ বছর আগে জেলা সদরের খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের খুনিয়াগাছ গ্রামে বিয়ে হয়। তার স্বামী শেখ কামাল চট্রগ্রামে কাজ করে। সে চট্রগ্রামে অবস্থান করছে। নিহতের বাবা মুসা মিয়ার বাড়ি জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচায়। বাবা আজ শনিবার বিকাল ৫ টায় তার মেয়ের লাশ সনাক্ত করে। মৃতের কারণ অনুসন্ধান চলছে। নিহতের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, শুক্রবার সকালে সদর উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে, বিকালে পাটগ্রামে ধরলা নদী থেকে ও সন্ধ্যায় হাতীবান্ধার সানিয়াজান নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। গুরুত¦সহ কারে নিহতদের মামলা গুলো তদারকি করা হচ্ছে। পোষমডেম শেষে লাশ বিকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর