রংপুর নগরীতে বাড়ছে চুরি
রংপুর অফিস: রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় দিনে দুপুরে বাসা-বাড়িতে বেড়েছে চুরি। কৌশলে কিংবা সুযোগ বুঝে যার যা পাচ্ছে তাই চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে চোরের দল। শুধু বাড়ি থেকে চুরি নয়। করোনা দুর্যোগে বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস, ফ্লাট বাসা-বাড়ি, এমন কি রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ করে চুরি বেড়েছে।
জানাগেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে দিকে নগরীর সাতগাড়া মিস্ত্রিপাড়া এলাকার একটি বাসা বাড়িতে গহনাসহ প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নাজিরুল ইসলাম ওরফে তলাম।
নাজিরুল ইসলাম জানান, জরুরি প্রয়োজনে ওই দিন, সকাল সাড়ে দশটায় ঘরের দরজায় তালা দিয়ে বাহিরে যান আমি। বাড়িতে কেউ না থাকায় সুযোগ নেয় চোরেরা। গহনাসহ প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। বাড়ি ফিরে দরজা খুলতে গিয়ে অবাক। ঘরের দরজায় তালা লাগানো থাকলেও ভিতর দিয়ে আটকানো। ঘরের পিছনে গিয়ে চোখে পড়ল শয়ন কক্ষের জানালার গ্রিল কাটা। তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দিনে দুপুরে চুরির এই ঘটনায় তিনি বাকরুদ্ধ হন।
নগর জুড়ে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে নগরীর সিটি পার্ক মার্কেটস্থ আরটিভি অফিস থেকে ১২ জোড়া বিদেশী কবুতর চুরি হয়। এর আগেও ওই অফিস থেকে এমন চুরির ঘটনা ঘটে। এনিয়ে আরটিভির রংপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম বাদল কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করেন। গত ৮ জুলাই প্রকাশ্য দিবালোকে মিস্ত্রিপাড়া হাসানের মোড় সংলগ্ন একটি মাঠ থেকে দুইটি গরু চুরি হয়।
এর আগে গত ৩০ জুন নগরীর কোবারু ডাক্তারপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। ২৪ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মাহিগঞ্জের ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের লকডাউন করা বাড়ি থেকে নগদ ১২ লাখ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল চুরি হয়। এছাড়াও ইন্টারনেট সংযোগের তার চুরির ঘটনাও বেড়েছে।
এদিকে বাড়ি চুরির ঘটনার সাথে কোরবানির ঈদকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে গরু চোরের দলও। গত ১৫ দিনে রংপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০টি গরু ও ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটকও করেছে। উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া কয়েকটি গরু।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সালামের গোয়াল ঘরের দরজা ভেঙ্গে ৬টি গরু চুরি হয়েছে। এছাড়াও জেলার পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, সদর ও বদরগঞ্জে আরও ২৫টির মতো গরু ও ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। 
হঠাৎ করেই এমন অপরাধ কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় চোরদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন আটক করা হয়েছে। অন্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, করোনাকাল ও ঈদকে ঘিরে যাতে চুরি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ বেড়ে না যায়, এজন্য পুলিশ সজাগ রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে চুরি যাওয়া মালামালসহ কয়েকজন চোর ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধে নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে এমন যে কোনো কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিভাগীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর