মারাত্মক ঝুঁকিতে তিস্তার ডানতীরের মূলবাঁধ
রংপুর অফিস: রংপুর অঞ্চলে তৃতীয় দফার বন্যা দেখা দিয়েছে। গেল কয়েকদিনের আষাঢ়ি বর্ষন আর উজানের ঢলে রংপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলার নদীগুলোতে বন্যার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ। পানির তোড়জোড় আর তীব্র ভাঙনে এখনো বিপদ কাটেনি নদীপাড়ের অসহায় মানুষদের।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রংপুর জেলার গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধটি (মূলবাঁধ) মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে ভাঙন আতঙ্কে আঁতকে উঠছে সেখানকার নদী তীরবর্তী অসহায় পরিবারগুলো।
মূলবাঁধের সঙ্গে ভাঙছে বাঁধের দুই পার্শ্বে। নোহালী ইউনিয়নের ফোটামারী টিহেড গ্রয়িং হতে ফোটামারী আলসিয়াপাড়া স্পার পর্যন্ত ডানতীর রক্ষা বাঁধটি মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঝুঁকি রোধে চেষ্টা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গাচড়ার বৈরাতিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ রক্ষা বাঁধের ২০ মিটারের বেশি পানির তোড়ে ধ্বসে গেছে। আলমবিদিতর ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা বাঁধটিতেও ভাঙন ধরেছে। বছর দু'য়েক আগে ১'শ ৬৮ কোটি ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। নোহালী ইউনিয়নের কচুয়া থেকে গজঘন্টার চালাপাকড়ের মধ্যে বেশ কিছু জায়গাতে বাঁধের ধ্বস শুরু হয়েছে।
একই অবস্তা ঘাটুপাড়ায়। সেখানকার মানুষজনের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড টেকসই কাজ না করায় ভাঙন ঝুঁকি বেড়েছে। এতে করে প্রায় ৫০ মিটার এবং বৈরাতির কিছু জায়গা ধ্বসে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধটি মারাত্বক ঝুঁকিতে পড়বে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি কোনো ভাবে ডানতীর রক্ষা বাঁধটি ভেঙে যায়, তাহলে বাঁধ সংলগ্ন ঘাঘট নদী তলিয়ে যাবে। এতে ঘাঘট তীরবর্তী এলাকাসহ শহরও প্লাবিত হবে। তিস্তা-ঘাঘটের পানি শহরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে ঘাঘটের উৎসমূল শ্যামা সুন্দরী খালটিও বন্যার পানিতে তলিয়ে যাবে।
পানি হু হু করে বাড়ায় তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দাবি করছেন   ফোটামারী আলসিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দারা। ওই এলাকার মমিনুর,  রফিক,  রমজান, লেবু ও মকবুল জানান, তিন চার মাস আগে ডানতীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৬শ’ ফিট সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভালো কাজ হয়নি। একারণে এখন আবার বন্যায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে তিস্তার মূলবাঁধটি এখনি রক্ষা করা না গেলে বন্যার অথৈ পানিতে ফোটামারী ও কুমারপাড়ার কয়েক হাজার পরিবারসহ ফসলি, জমি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধু ওই দুই গ্রামই নয়, তিস্তার পানি ঘাঘট নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে রংপুর শহরে প্রবেশ করবে। এতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটুল জানান, ডানতীর রক্ষা বাঁধটির ভাঙন ঠেকাতে না পারলে বিস্তীর্ণ এলাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে। দ্রুত ভাঙন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে অবগত করার পরও কাজ হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন ।
এদিকে রংপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ট্রাস্টফোর্সের মাধ্যেমে ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাজ করা হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম হয়নি। ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে।
বিভাগীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর