লালমনিরহাটে নিখোঁজ মাইক্রোবাস শ্রমিকে লাশ তিন দিন পর উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার: আজ সোমবার বিকালে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর মাইক্রোবাস শ্রমিক নেতা মোঃ বেলাল হোসেন(২৭) এ লাশ জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে পাট খেত হতে উদ্ধার হয়েছে। তাঁকে শ^াসরোধ করে হত্যা করে ঘাতকরা নির্জন স্থানের পাট খেতের পাশে ডোবায় ফেলে রেখে গেছে। 
জানা গেছে, এই হতভাগ্য শ্রমিক নেতা দুই সপ্তাহ আগে জেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের বৈরাগিকোমার গ্রামে বিয়ে করে। গত শুক্রবার স্বল্প পরিসরে বউভাতের অনুষ্ঠান হয়। নিহত শ্রমিক নেতা মোঃ বেলাল হোসেন(২৭) জেলা শহরের অদুরে হাড়িভাঙ্গার ঈদগাঁও মাঠ সংলগ্ন নানার বাড়িতে মায়ের সাথে বসবাস করতেন। শিশু বয়সে মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে ছিল। তাই নানা মৃত জব্বারের পরিবারে মানুষ হয়। বাবা আবুল কালাম পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে অন্যত্র বসবাস করে আসছে। পারিবারকি সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে রাত ৯ টায় মালিকের বাড়িতে মাইক্রো জমা দিয়ে সে বাসায় চলে আসে। এ সময় তার মোবাইলে ১টি ফোন আসে। নতুন বউকে বলে যায় মাইক্রোবাস নিয়ে ভাড়ায় যেতে হবে। তুমি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। রাতে বাড়ি ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় তাকে ফোন করে পাওয়া যায় না। ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নিখোঁজের ৩দিন পর লাশ মিলল।
মাইক্রো শ্রমিক বেলাল জনতা ব্যাংকের কর্মচারি মানিকের মাইক্রোবাস চালক ছিল। মাইক্রো চালক বেলাল হোসেন অতি সাধারণ একজন নিরীহ, সাহসী ও প্রতিবাদি ছিলেন। করোনা পরিস্থিতিতে বাস, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক পক্ষ শ্রমিকদের কোন সহাতা না করায় বেলালের নেতৃত্বে সাধারণ শ্রমিকরা আন্দোলন করে ছিল। এমন কী সরকার সিদ্ধান্তে বাস চলাচল শুরু হলে বাসষ্ট্যান্ডে শ্রমিক সংগঠনের নামে বাস ও ট্রাকের চাঁদা উত্তোলন বন্ধ জোরাল আন্দোলন করে। এমন কী বাস ষ্ট্যান্ডে দুই দল শ্রমিক চাঁদা আদায়ের পক্ষে বিপক্ষে সংর্ঘষ হয়। পরে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাস ও ট্রাক হতে শ্রমিক সংগঠনের চাঁদা আদায় বন্ধ রয়েছে। সাধারণ শ্রমিকের ন্যায় সংগত দাবি নিয়ে আন্দোলন করে ছিল বেলাল। তাই সে রাতারাতি সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠে ছিল। শ্রমিকের দ্বন্দের জের ধরে এই হত্যা ঘটতে পারে বলে সাধারণ শ্রমিকরা মনে করে। এই ঘটনায় আদিতমারী থানার ওসি ও এসপিকে ফোন দিলে তারা ফোন ধরেনি।


সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর