হাতীবান্ধায় জমিতে পড়ে থাকা গাছ অন্যত্রে সরিয়ে নিতে বলায় গৃহবধূকে মারধর
স্টাফ রিপোর্টার: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় আবাদী জমিতে ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে থাকা একটি গাছ অন্যত্রে সরিয়ে নিতে বলায় শিউলী বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিউলি বেগম বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে আহতের স্বামী হামিদুর রহমান টিটু বাদী হয়ে ৮জনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলার পূর্ব ডাউয়াবাড়ী এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
অভিুযক্তরা হলেন, উপজেলার দক্ষিন ডাউয়াবাড়ী এলাকার মৃত মশিউর রহমানের ছেলে আ: মতিন (৪৫), আলিম (৩৫), মালেক (৪০), মতিনের ছেলে তুরাগ (১৯), মালেকের ছেলে জুয়েল (১৯), মালেকের স্ত্রী লতিফা বেগম (৩৫), আলিমের স্ত্রী রেনি (৩০) ও মতিনের স্ত্রী নুর বানু (৪০)। আহত শিউলী বেগম উপজেলার একই এলাকার ও মামলার বাদি হামিদুর রহমান টিটুর স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডাউয়াবাড়ী এলাকায় হামিদুর রহমানের আবাদী জমির সাথে লাগোয়া অভিযুক্ত মতিনের জমি। মতিনের জমির সীমানায় থাকা জিগার গাছ ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে টিটুর জমিতে। এমতাবস্থায় টিটুর স্ত্রী শিউলি ও তার বাবা মফিজুল জমিতে চাষাবাদের জন্য মতিনকে ভেঙ্গে পড়া গাছটি অন্যত্রে সরিয়ে নিতে বলে। গাছ না সরিয়ে উল্টো এ নিয়ে শিউলি ও টিটুর বাবার উপর চড়াও হয় মতিন। তাদের মাঝে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে শিউলি ও তার শশুর মফিজুল বাড়িতে চলে আসে। পরে তারা বাড়িতে প্রবেশের আগেই বাড়ির উঠানে মতিনসহ অন্য অভিযুক্তরা এসে বাঁশের লাঠি দিয়ে শিউলি ও মফিজুলকে বেধড়ক পেটিয়ে আহত করে। এমনকি শিউলি বেগমের শ্লীলতাহনীর চেষ্টাও করে অভিযুক্তরা। এ সময় তাদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে শিউলি বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মতিনের ভাই আলিমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তারা যে মারধরের অভিযোগটি তুলেছে তা মিথ্যা। আমাদের জমির একটি গাছ তাদের জমিতে ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে ছিলো তা নিয়ে ঝগড়া ঝাটি আর একটু হাতাহাতি হয়েছে মাত্র। এছাড়া তেমন কিছুই আর হয়নি বলে জানান তিনি।  
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর