ব্যস্ত সময় পার করছেন আদিতমারী কামার পল্লীর লোকজন!
সুলতান হোসেন: ঈদুল আজাহা উপলক্ষে কোরবানীর পশুর মাংস কাটতে কামার পল্লীতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা দিন-রাত ঘুমকে হারাম করে পরিশ্রম করে চলেছেন ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, লালমনিহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের শালমারা কামারপাড়া এলাকায় ৫০ টি পরিবার দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন। একমাত্র কামারী কাজ করে তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তারা দীর্ঘদিন থেকে এই পেশায় নিয়োজিত থেকে দিনরাত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে থাকেন। কামার পল্লীতে তারা লোহা পুড়ে ও পিটিয়ে বিভিন্ন প্রকার ধারালো ছুরি,দা,বটি ও চাপাতি তৈরি করে বিভিন্ন হাটে-বাজারে বিক্রি করে থাকেন।
বিশেষ করে  প্রতি বছর ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে বাড়তি মুনাফা লাভের আশায় বেশি দামে বিক্রি করতে পরিবারের সবাই মিলে ঘুমকে হারাম করে দিনরাত পরিশ্রম করে থাকেন। এজন্য কামারীরা এক মাস আগে থেকে কোরবানীর পশুর মাংস কাটতে জিনিসপত্র তৈরি করে মজুুদ করে থাকেন।প্রতিটি বড় ছুরি ৭শ টাকা,ছোট ছুরি ২০ টাকা ও চাপাতি ৩ শ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করে থাকেন। তাদের তৈরি করা এসব যন্ত্রপাতি কিনতে দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারা আসেন এ এলাকায়। কিন্তু এবছর করোনায় সীমিত আকারে পরিবহনের কারনে পাইকাররা না আসায় বিক্রির সংখ্যা একেবারেই কম হওয়ায় ক্ষতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে।
কামার পল্লীর সাইদুল ইসলাম (৪৫) জানান, ৩০ বছর যাবত এ কাজের সাথে জড়িত আছেন।সারা মৌসুমে হালকা কাজ করে কোন রকম দিনযাপন করেন । তিনি আরো জানান, গত বছর কোরবানীর ঈদে দুই সপ্তাহ পরিশ্রম করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মত রোজগার করেন। সেই আশায় এ বছর ২ শতাধিক ছুরি-চাপাতি তৈরি করা হয়েছে কিন্তু করোনার কারনে চাহিদা না থাকায় বাহিরের জেলার পাইকার না আসায় এবার বিক্রির সংখ্যা কম।
একই অভিমত ব্যক্ত করেন রতন মিয়া (২৫) নামের আরেক কামার। তারা আরও জানান, করোনার সময় কোন কর্ম না থাকার কারনে তাদেরকে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অনুদানের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছিল। আজ অনেকদিন হয়ে গেল কিন্তু কোন অনুদান এখন পর্যন্ত তাদের হাতে আসেনি। অবিলম্বে তাদের সেই অনুদান প্রদানের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিকট জোর দাবী জানান।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর