স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া ডন মহি মিটুর ভাতিজির নওশীনের রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে টেন্ডার দুর্নীতি
রংপুর অফিস: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের মাফিয়া ডন বলে খ্যাত মোতাজ্জিরুল ইসলাম (মিঠুর) ভাতিজি উম্মে সুলতানা নওশীন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের একান্ত সহকারী হলেও পুরো হাসপাতালের টেন্ডার কোটেশনসহ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় চলছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জুড়ে।অবশেষে মাফিয়া ডন মিঠুর ভাতিজী নওশীনকে লালমনিরহাটের সদর হাসপাতালে বদলি করা হলে তিনি নিজের কক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আলমারিতে রেখে দরজায় তালা ঝুলিয়ে চলে গেছেন। বার বার বলার পরেও কোন কাগজ বুঝে দেয়নি এখনো। এমনকি লিখিত চিঠি দেয়ার পরেও কক্ষটির তালা খুলে কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়নি। ফলে হাসপাতালের পরিচালকসহ সব কর্মকর্তা নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তালা মেরে রাখা কক্ষের দরজা খোলার সিদ্ধান্তই নিতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপাওে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, নওশীনকে লালমনিরহাটে বদলি করার পর সে এখনও তার ব্যবহৃত কক্ষটি ও কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়নি। বরং তালা মেরে চলে গেছে। তাকে চিঠি দেয়ার পরেও কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। সে কারণে আমরা আলোচনা করছি কি করা যায়।
কে এই নওশীন ঃবাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়া ডন মিঠুর বাড়ি রংপুর নগরীর মেডিকেল পূর্বগেট এলাকায়। গ্রামের বাড়ি গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর গ্রামে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তার আবির্ভাব ঘটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিভিন্ন মালামাল সাপ্লাই দিতো সে। এরপর বিএনপির হাওয়া ভবনের আশীর্বাদে সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সব মেডিকেল সামগ্রী ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ শুরু করে। এ জন্য গড়ে তোলে একটি সন্ত্রাসী চক্র। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে কিছুদিন ঘাপটি মেরে থাকার পর আবারও একটি বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় পুরো স্বাস্থ্য অধিদফতরকে তার কব্জায় নিয়ে আসে। সেই সুবাদে বড় বড় রাজনৈতিক নেতাসহ আমলাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। ফলে বনেযায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুকুটহীন সম্রাটে। এভাবে মিঠু সারা দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করার ঠিকাদারী পেতে থাকে। তাকে সহায়তা করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রধান সহ প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। ফলে গত ২০ বছরে মিঠু হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মিঠু একশ কোটি টাকার চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করে। এসব জাপান জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করার নামে চীন থেকে নিম্ন মানের সামগ্রী সিল বদল করে সরবরাহ করে। ফলে হাসপাতালের সিসিইউ, স্বাস্থ্য পরীক্ষার যেসব সামগ্রী সরবরাহ করেছে বেশিরভাগই এখন বিকল।মিঠু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার কতৃত্ব অব্যাহত রাখার জন্য তার ভাতিজি উম্মে সুলতানা নওশীনকে চাকরি পাইয়ে দেয়। নওশীন হাসপাতালের পরিচালকের একান্ত সহকারী হিসেবে চাকরি করলেও পরিচালকসহ সব কর্মকর্তা তার ক্ষমতার কাছে ছিল জিম্মি। নওশীনের বিরুদ্ধাচরণ করলেই তার চাচা মিঠুর মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাধ্যমে বদলি হয়ে চলে যেতে হয়। শুধু তাই নয় নিম্নমানের চিকিৎসা সামগ্রী নিতে রাজি না হলেও অধিদফতরের বড় কর্তাদের দিয়ে ফোন করিয়ে তটস্থ রাখে মিঠু। হাসপাতালের পরিচালক কে হবেন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কে হবেন কোন অধ্যাপক বা চিকিৎসক সবার বদলির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হতো ভাতিজি নওশীনের মাধ্যমে।
 নওশীন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাসপাতালে বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের কাজ হাতিয়ে নিতে থাকে। নিজের স্বামী বেলাল একটি ব্যাংকে চাকরি করতো তাকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে স্বামীর নামে ও বেনামে কোটি কোটি টাকার সামগ্রীসহ বিভিন্ন নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে আসছে। হাসপাতালের যেই পরিচালক হয়ে আসেন না কেন নওশীনের কথামতো তাদের চলতে হয়। এভাবেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যায় নওশীন।করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে মাস্ক, পিপিইসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর এক কোটি টাকা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বরাদ্দ দিলেও নওশীনের ক্ষমতার দাপটে কোন টেন্ডার আহ্বান না করে নিম্নমানের কিছু সামগ্রী কিনে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় সে।তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন অনিয়ম ও মিঠুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হতে থাকলে নওশীনের বিষয়টি সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত কয়েকদিন আগে তাকে লালমনিরহাটে বদলি করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিজ কক্ষটি তার দখলে রেখেছেন নওশীন। তালা মেরে চাবি রেখেছেন তার কাছে। আশা আবারও ফিরে আসবেন।হাসপাতালের পরিচালক থেকে শুরু করে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী নওশীনের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তবে নওশীনের স্বামীসহ স্বজনদের নামে কত টাকার কাজ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে সেই মালামালগুলো কোথায় সার্বিক বিষয় তদন্ত করার দাবি তুলেছেন তারা।
রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল স্বাস্থ্যখাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যত অনিয়ম আর দুর্নীতি হয়েছে সবগুলো তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর