আদিতমারীতে ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি
স্টাফ রিপোর্টার : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চলের পরিবারগুলো গত ২ দিন যাবত পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে শনিবার তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেঃমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২, গোবরধন, চন্ডিমারী, দক্ষিণ বালাপাড়া, আরাজি ছালাপাক  গ্রামগুলো ঘুরে দেখাগেছে, এসব পরিবারগুলোর বাড়ীতে প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট পানি উঠেছে। পানির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। আবার অনেকেই বাড়ীঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে তিস্তার চরাঞ্চলে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীব যাপন করছেন। সেখানকার কিছু পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন আবার অনেকেই এখনও চরাঞ্চলে পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।
মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলের বাসিন্দা  কৃষক জমির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন,কয়েকটি পরিবর মূল ভু খন্ডে আশ্রয় নিলেও এখনও অনেকেই পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। তিস্তার পানি আরেকটু বাড়লে তারাও চর ছেড়ে মূল ভু খন্ডে চলে আসবেন।
বারঘড়িয়া বাহাদুর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, গত ২ দিন যাবত ডিনি পানিবন্দি হয়ে গবাদিপশু নিয়ে  মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শুধু আফজালই নন, তার গ্রামের সকল পরিবারই পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান,তার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সরকারী ত্রাণ সহায়তার জন্য এসব পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা করার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা করে দ্রুত প্রেরণের জন্য বলা হয়েছে।
এক নজরে- এর অন্যান্য খবর