রংপুরে করোনার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভোগান্তি
রংপুর অফিস: রংপুর সিটি করপোরেশনের করোনা রোগীদের মোবাইল ফোনে টেলি মেডিসিন সেবা প্রশংসিত হলেও নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জট কমছেনা। ৩৩টি ওয়ার্ডে যে হারে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে খোদ মেয়রসহ সুধি মহল নমুনা পরীক্ষার হার বৃদ্ধি ও দ্রুত ফলাফল প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।রংপুর সিটিকর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৭১০ জন। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনেই আক্রান্তের সংখ্য ৫৮৮ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের এবং সুস্থ হয়েছে ৩০৯ জন। করোনা ডেলিকেডেট হাসপাতালে সিটির ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে টেলি মেডিসিনের আওতায় রয়েছেন ২৪৮ জন রোগী।
 রংপুর সিটিকর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, করোনা রোগী নমুনা সংগ্রহে সিটি করপোরেশনের ৬ জন টেকনেশিয়ান রয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। করোনা ডেলিকেডেট হাসপাতালে রসিকের পক্ষ থেকে ৩ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া নমুনা পরীক্ষার জন্য নগরীর কাচারি বাজারের পাশে একটি বুথ খোলা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ৬০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহ করা নমুনা রংপুর মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা ১৮৮ জনের। কিন্তু প্রতিদিন নমুনা জমা হচ্ছে ৪০০’র ওপর। ফলে কোন কোন সময় নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ সময়ের কারণে নমুনা দেয়া ব্যক্তি ও তার স্বজনরা থাকে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠায়।নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ এলে সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের টেলি মেডিসিন সেবা দেয়া হয়। করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ওই রোগীকে চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারেও দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। দরিদ্র রোগী ও তার পরিবারের খাদ্য সামগ্রীও সরবরাহ করা হয় রসিকের পক্ষ থেকে। রংপুর সিটিকর্পোরেশনের  উদ্যোগে ও করোনা হাসপাতালের টেলি মেডিসিন সেবা পেয়ে এ পর্যন্ত ৩০৯ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন।রংপুর নগরীর গুপ্তপাড়া এলাকার অগ্রনী ব্যাংকের ড্রাইভার রফিকুল ইসলামের গত ২৮ মে নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ আসে এবং ২০ জুন তিনি সুস্থ্য হন। তিনি বাড়িতেই চিকিৎসা নেন। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে করোনা সেবা দেয়া চিকিৎসকরা প্রতিদিন মোবাইল ফোনে তাকে পরামর্শ দিত। সব সময় খোঁজখবর নেয়ায় তার মনোবল বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তিনি সুস্থ্য হয়ে কর্মস্থলে যোগদানের চিন্তা করছেন।তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে ক’দিন তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন সেই কয়দিন প্রতিবেশিরা তাকে ও তার পরিবারকে হেয় চোখে দেখেছে। কেউ কোন খোঁজ না নিলেও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা তার খোঁজ রাখায় পরিবারের হতাশা অনেকটা কেটে যায়।
  রংপুর সিটিকর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. কামরু জ্জামান তাজ সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে প্রতিদিনই আমরা করোনা রোগীদেও টেলি মেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছি।তিনি বলেন, চলাফেরায় সরকারি বিধি নিষেধ না মানায় করোনা আক্রান্তে সংখ্যা বাড়ছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের প্রতি অন্যান্যরা মানবিক আচরণ করেন না এটা অত্যন্ত দুঃখ জনক।
  রংপুর সিটিকর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, করোনা রোগীদের সেবার দিক থেকে দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় রংপুরে সেবার মান ভাল। জনগণ সচেতন হলে খুব দ্রুত এই মহামারী কমে যাবে।
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরন্ব কুমার রায় বলেন, করোনা প্রতিরোধে কয়েকটি ওয়ার্ডকে পর্যবেক্ষন করে চিহ্নিত করে সিদ্ধন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
বিভাগীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর