সরকারি নির্দেশনা না মেনে উল্টো ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মশিউর রহমান।
জানা গেছে, সাধারণ মানুষদের মাঝে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাক্স ব্যবহার করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করা, অযথা ঘোরাফেরা ও জনসমাগম বন্ধে সরকার কয়েকদফা নির্দেশনা জারি করে। মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনার বাস্তবায়ণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও।
গত ২১ জুন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের সময় আইন না মেনে রাত নয়টা পর্যন্ত পাটগ্রাম শহরের হাসেম আলী তার গালামাল দোকান খোলা রাখায় এক হাজার টাকা জরিমানা করে। এরপরেও হাসেম আলী তার দোকান মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা রাখেন বলে পার্শ্ববর্তী একাধিক দোকানদার জানান। ২৫ জুন আবারও রাত সাড়ে ৮ টার পর ওই দোকান খোলা পায় ইউএনও। দোকান মালিককে ডেকে কথা বলার একপর্যায়ে পালিয়ে যান তিনি। এতে ওই দোকানেরই তালা লাগিয়ে অনুমতি ছাড়া না খুলতে পার্শ্ববতী মানুষজনকে বলেন ইউএনও। কিন্তু ওই দোকানদার কথা না মেনে তালা খুলে পূর্বের মত ব্যবসা করতে থাকেন। ২৯ জুন দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট দোকানদার হাসেম আলীর নিকট অনুমতি ছাড়া তালা খোলার ব্যাপারে জানতে চান। সন্তোষজনক জবাব না দেয়ায় দোকান মালিকের মাধ্যমে আবারও তালা লাগিয়ে চাবি নিয়ে ফিরে যায় ভ্রাম্যমান আদালত।
এ ঘটনার পর ০১ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর ভ্রাম্যমান আদালতের ইউএনও’র বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি ও জোর করে জরিমানা আদায়ের লিখিত অভিযোগ করেন হাসেম আলী ওরফে গাটু।
এ ব্যাপারে পর পর তিনদিন কয়েকবার অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে দেখা পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, উনি (স্বামী- হাসেম আলী) সকালে বের হয়ে কোথায় যান জানিনা। রাতে আসেন। ৪র্থ দিন বিকেলে পাটগ্রাম বাজারের রেলগেট এলাকায় হাসেম আলীর দেখা হলে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক দোকানদার জানান, হাসেম আলী দোকান বন্ধের সরকারি নির্দেশ না মেনে দোকান খোলা রাখে। এ কারণে ভ্রাম্যমান আদালত তাকে জরিমানা করে। একদিন দোকান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তালা দেয় প্রশাসন। পরে কথিত সাংবাদিক কামরান হাবীবের বুদ্ধিতে এমন অভিযোগ করে হাসেম আলী।
পাটগ্রাম সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আফতাবুর রহমান বলেন, ওই দোকানদার রাত ১০ টা- ১১ টা পযর্ন্ত দোকান খোলা রাখে।
পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত জানান, ২৫ জুন রাত সাড়ে ৮ টার পরও দোকান খোলা রাখায় ভ্রাম্যমান আদালত হাসেম আলীর সাথে কথা বলার সময় তিনি পালিয়ে যান। এ সময় ওই দোকানেরই তালা লাগিয়ে অনুমতি ছাড়া খুলতে নিষেধ করা হয়। ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি থেকে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানির কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থানায় একটি জিডি করেছেন।
ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মশিউর রহমান বলেন, স্থানীয় কামরান হাবীব নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। তাকে চাঁদাবাজি করতে নিষেধ ও সর্তক করায় দোকানদারকে দিয়ে এমন মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। কাউকে ভয়-ভীতি বা হুমকি- ধামকি দেওয়া হয়নি।
কামরান হাবীব সাংবাদিকদের জানান, আমি কেন অভিযোগ করাইতে যাব। অভিযোগকারী আমাকে অভিযোগের কপি দিয়েছে আমি নিউজ করেছি। ইউএনও আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক ষড়যন্ত্র করছে।
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর