রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দক্ষিন গাবুড়া গ্রামের শেষ বাড়িটিও তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন
রংপুর অফিস: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আরো একটি জনপদ দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামটি তিস্তার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।গত বুধবার দুপুরে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে গ্রামের শেষ বাড়িটি। গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে গ্রামটির প্রায় শতাধিক পরিবারের বসত বাড়ি ও আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর অপ্রতিরূদ্ধ ভাঙ্গনের ফলে দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের শেষ বাড়িটিও বিলীন হয়ে গেছে। আজিম উদ্দিন তার ঘর বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে অন্যত্র। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধে কোনো গত কাল সোমবার এখবর লেখা পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়নি ।এলাকাবাসী জানিয়েছে, দক্ষিণ গাবুড়া (মাঠের হাট) গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস ছিল। তিন বছর আগে গ্রামটি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। এর আগে এ অঞ্চলের ৪টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব চর, আমিন পাড়া, বৈরাগীপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের পাকা মসজিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্য স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শত শত একর আবাদি জমি বিলীন হয়েছে নদী গর্ভে। বাড়িঘর হারিয়ে ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গরু-ছাগল নিয়ে বসবাসের জন্য একটু ঠাঁই খুঁজতে তারা এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। অনেকে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতিবছর তিস্তার ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে গ্রামগুলো। আজিম উদ্দিন জানান, প্রায় এক মাস ধরে নদীভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। নদী সবকিছু কেড়ে নিয়ে তাদের সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। গৃহহারা হয়েছে কয়েক শত পরিবার। খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে জীবন পার করছেন তারা। এলাকার গৃহবধু সালেহা বেগম  বলেন, কোথায় যাব কিছুই বুঝতে পারছি না। বর্তমানে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গছে, এরপরও ভাঙ্গন রোধে কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরে আবারো বসতি গড়ার চিন্তা করছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ সাংবাদিকদের জানান, এবারের নদী ভাঙ্গনে দক্ষিণ গাবুড়া গ্রামের ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে শিগগিরই সহযোগিতা করা হবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জানান, দক্ষিণ গাবুড়া গ্রাম নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা। বরাদ্দ না থাকায় ভাঙ্গন রোধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। তবে ওই এলাকায় ভাঙ্গন রোধে বরাদ্দের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   
জাতীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর