আগামী সপ্তহে রংপুরের বাজারে আসছে সুস্বাদু ‘হাড়িভাঙ্গা’ আম
রংপুর অফিস: ঝতুর বৈচিএে চলছে মধুমাষ জৈষ্ঠ।চলতি মাষের মাসের মাঝামাঝি গাছ থেকে ‘হাড়িভাঙ্গা’ আম পাড়া শুরু হবে। বাজারেও পাওয়া যাবে রংপুরের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এই আম। তবে এবার মহামারি করোনাকালে হাড়িভাঙ্গার বাণিজ্যিক বাজার নিয়ে চিন্তিত আমচাষিরা।রংপুরের কৃষি বিভাগ বলছে, এবার রংপুর অঞ্চলে হাড়িভাঙ্গার ফলন ভালো হয়েছে। সারাদেশে জনপ্রিয়তার তালিকায় থাকা এই আম এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পরিপক্ক হবে। এ সময়ে বাগান মালিকরা গাছ থেকে হাড়িভাঙ্গা আম পাড়তে পারবেন। তখন থেকে বাজারজাতও করা যাবে।
এবার রংপুর অঞ্চলে তিন হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকাতে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে।গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। যা পনের হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারার শঙ্কা করছেন চাষিরা।এদিকে ফলন ভালো হলেও গত দুই সপ্তাহের ঝড়-বাতাসে আমের কিছুটা তি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক থাকলে শুধু হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে এবার ২শ” কোটি টাকার ব্যবসা করতে পারবে এ জেলার আমচাষিরা।মৌসুমের শুরুতে হাড়িভাঙ্গার চাহিদা বেশি থাকায় এর দাম কিছুটা বেশি থাকবে। সেত্র প্রতি কেজি হাড়িভাঙ্গা আম ৮০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে পারে।
এদিকে হাড়িভাঙ্গা আমের স¤প্রসারক হিসেবে পরিচিত আব্দুস ছালাম সরকার জানান, তিনি এবার ১৪ একর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ করেছেন। বিগত বছর এই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ আমচাষিদের বাগান কিনে নিতেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। ইতোমধ্যে গেল কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে তার বাগানের প্রায় লাধিক মণ আম নষ্ট হয়েছে।
মিঠাপুকুরের সফল এই আমচাষি জানান, জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এই আম পরিপক্ক হয়ে ওঠে। ফলে তখন বাজারজাত করা যায়। এরমধ্যে আম বিক্রি না হলে গাছেই পচাঁতে হবে আম।
অন্যদিকে রংপুর আঞ্চলিক কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, ইতোমধ্যে বিখ্যাত এই আমের বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বড় বড় চাষিদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করানো হবে। আম চাষিদের তালিকা প্রণয়নের কাজ করা হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির ওপর এবার অনেক কিছু নির্ভর করছে বলেও তিনি জানান।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর