পাটগ্রামে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ ওষুধ সংকট
পাটগ্রাম প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে ব্যাপক হারে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাস জনিত রোগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে গরুর এ রোগের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ সুযোগ ব্যবহার করে ভেটেরিনারি কিছু ওষুধ বিক্রয়কারী দোকানদার ওষুধের দাম বেশি নিচ্ছে।
একাধিক ভেটেরিনারি ফার্মেসীর ওষুধ বিক্রেতা জানান, ‘গরুর শরীরে গুটি গুটি হওয়া, জ্বর, শরীর ব্যাথাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত প্যারাসিটামল, কিটোপ্রোফেন, এন্টিবায়োটিক, ক্লোরাফেনিরামিন মেলিয়েট (এ্যান্টিহিস্টামিন) জাতীয়সহ বিভিন্ন ওষুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় প্রস্তুতকারী কোম্পানী সমূহ ওষুধ সরবরাহ করছে না। ফলে বাজারে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।’
পাটগ্রাম ইউনিয়নের কচুয়ারপাড় এলাকার কৃষক তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দুইটি গরুর শরীর ফুলে গেছে। গ্রামের এক পশুর চিকিৎসকের নিকট ব্যবস্থাপত্র লিখে নিয়েছি। বাজারে ঘুরেও ওষুধ মিলছেনা। তিনি আরও জানান, আমাদের গ্রাম এলাকায় ২৫/৩০ টা গরুর শরীর ফুলে গেছে ও গুটি গুটি হয়েছে।
গবাদিপশুর গ্রাম্য চিকিৎসক আমিনুর রহমান বলেন, দগত এক সপ্তাহে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে ১০ টি গরুর মধ্যে ৮টি গরুরই লাম্পি স্কিন ডিজিজ। এক সপ্তাহে কমপক্ষে তিন শতাধিক গরুর চিকিৎসা দিয়েছি।’ অপর এক গ্রাম্য চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ‘গরুর লাম্পি স্কিন রোগে ব্যবহৃত ওষুধ গুলো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধ সংকটের কারণে বেশি দাম দিয়ে কৃষকদের কিনতে হচ্ছে। অনেকে হয়রানিও হচ্ছেন।      
গবাদিপশুর ওষুধ বিক্রেতা কাজী ভেটেরিনারী নেটের সত্ত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বছর লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস রোগসহ গরুর বিভিন্ন রোগ দেখা দেওয়ায় বাজারে ওষুধের চাহিদা বেড়েছে। ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির নিকট প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা উল্লেখ করে গত ১০ দিন আগে অর্ডার দিয়েও ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।’   
পাটগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আব্দুল আজিজ প্রধান বলেন, ‘গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগটি ভাইরাস জনিত। পাটগ্রাম উপজেলায় এ রোগে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৪ শত গরুর সন্ধান পেয়েছি। মশা, মাছির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। গরুকে মশারির মধ্যে রাখতে হবে। বাজারে গবাদিপশুর ওষুধ সংকটের কথা জেনেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ রোগে প্রতি ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ২টি, নিম পাতা বাটা ২৫ গ্রাম, লবণ ১০ গ্রাম খাবার সোডা ৫০ গ্রাম, গুড় ৫০ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশ্রিত করে সকাল- বিকাল ৭ দিন সেবন করালে গরু সুস্থ হয়ে উঠবে। আমরা এ প্রচারণা চালাচ্ছি।  
এক নজরে- এর অন্যান্য খবর