রংপুর বিভাগের নিভৃত পল্লীতে পুলিশ দিয়ে উদ্ধার হওয়া ময়ূরটি বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে
রংপুর অফিস: রংপুর বিভঅগের এক নির্ভত পল্লীতে এক কৃষকের হাতে আটক হওয়া বিরল প্রজাতির ময়ূরটি পুলিশ উদ্ধার করে দিয়েছে রংপুর বনবিভাগের হেফাজতে।রংপুরের বন বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা থেকে উদ্ধার হওয়া সেই ময়ূরটি এখন গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের পরিবেশ বান্ধব মুক্তাঙ্গনেবিচরনের জন্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।এই বিরল প্রজাতির উদ্ধার হওয়া ময়ূরটি এষানকার আবহাওয়ায় বসবাসের উপযোগী কি না তা প্রনী সম্পদ অধিদপ্তরকে চুল চেরা বিশ্লেশন করার দাবী জনীয়েছেন এষানকার প্রানী প্রেমীরা।স্থানীয় বন বিভাগ ময়ূরটি কোন লিঙ্গেও তাও বলতে পারেন নি। বিরল প্রজাতীর ময়ূরটি পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে সঙ্গিবিহীন একা এসে এদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারনা করছেন সচেতন মহল।
গত ৯ ই জুন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তর্বতী ভাঙ্গার মোড় ইউনিয়নের মধ্য রাবাইটারী গ্রামের এলাকাবাসী স্থানীয় বাঁশ বাগানে একটি দৃষ্টি নন্দন ময়ূর দেখতে পায়। এরপর কৌতহলী গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে ময়ূরটি পার্শ্ববর্তী পুকুরে নেমে আটকা পড়ে। এ সময় একই গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র হাফিজুর রহমান ময়ূরটিকে আটক করে নিজ বাড়েিত নিয়ে যায়। খবর পেয়ে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা রেঞ্জ বন কর্মকর্তা নবীর উদ্দিন বণ্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ময়ূরটিকে বন বিভাগের হেফাজতে নেয়ার জন্য গেলে তারা সেটি হস্তান্তরে গড়িমসি এবং অসহযোগিতা করে। পরে বন বিভাগের অভিযোগ পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ সেখান যায়। এরপর ফুলবাড়ী থানা পুলিশ এবং বন বিভাগ যৌথভাবে বণ্যপ্রাণী সংরক্ষন আইন অনুযায়ী ময়ূরটিকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে রংপুর সদর রেঞ্জ বন কর্মকর্তা সাফিয়ার রহমান সাফির নেতৃত্বে রংপুরের বিভাগীয় বন কার্যালয়ের একটি রেসকিউ টিম কুড়িগ্রামে গিয়ে ময়ূরটিকে বিভাগীয় হেফাজতে নিয়ে আসে। এর পর ময়ূরটিকে বন বিভাগের উদ্যোগে পরিবেশ বান্ধব বিচরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। বন কর্মকতারা ধারনা করছেন, সম্ভবতঃ ময়ূরটি সীমান্তের ওপার থেকে পথ ভুল করে ঐ গ্রামে এসেছিল।
রংপুরের বিভাগীয় বন কার্যালয়ের সদর রেঞ্জ বন কর্মকর্তা সাফিয়ার রহমান সাফি জানান, ময়ূরটি গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়ার সময় ডানায় আঘাত পেয়েছিল। আমাদের হেফাজতে নেয়ার পর এর প্রয়োজনীয় সেবা এবং চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ময়ূরটি এখন এটি সুস্থ আছে।  নিয়ম মাফিক খাওয়া দাওয়া করছে। তিনি জানান, প্রথমে এটি দিনাজপুর রামসাগর পার্কের জন্য হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া  হলেও পরবর্তীতে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারী পাক র্কতৃপর্ক্ষের চাহিদাপত্র আসায় ময়ূরটিকে সেখানে পাঠানোর সরকারী উদ্বোগ নেয়া হয়েছে।
 পরিবেশ বান্ধব মুক্তাঙ্গনে বিচরনের জন্য পর্যপ্ত সুবিধা থাকায় সেখানেই হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ সপ্তাাহে যথাযথ কতৃপক্ষের মাধ্যমে ময়ূরটিকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারী পাক র্কতৃপর্ক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি আশা করছেন।
বিভাগীয় বার্তা- এর অন্যান্য খবর