করোনাকালে হাড়িভাঙ্গার বাণিজ্যিক বাজার নিয়ে চিন্তিত আম চাষিরা
রংপুর অফিস: রংপুরের বিখ্যাত আমের নাম হাড়িভাঙ্গা। রংপুরের শত শত মানুষ এই আম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সুস্বাদের কারণে আমটি সারাদেশেই জনপ্রিয়। হাড়িভাঙ্গার জন্যই রংপুর দেশের মধ্যে আমের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে খ্যাত। আমটি দেখতে কিছুটা লম্বাটেসহ গোলাকৃতির এবং কালচে সবুজ রংয়ের। পাকলে কিছুটা লালচে রং ধারণ করে। হাড়িভাঙ্গা আম সুগন্ধী, অতি সুমিষ্ট ও আঁশহীন। এই জাতটির বিশেষ একটি গুণ হচ্ছে পুষ্ট আম বেশি দিন অটুট থাকে। চামড়া কুচকে যায় তবুও পঁচে না। হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে এবার ২শ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পারবেন আমচাষিরা ।ইতিমধ্যে গাছ থেকে হাড়িভাঙ্গা আম পারতে শুরু করেছেন চাষীরা। বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে রংপুরের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এ হাড়িভাঙ্গা আম। তবে এবার মহামারি করোনাকালে হাড়িভাঙ্গার বাণিজ্যিক বাজার নিয়ে চিন্তিত আমচাষিরা। সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারার আশঙ্কা করছেন তারা।মৌসুমের শুরুতেই আম বাজাওে সর্বচ্চ ৪৫ টাকা কেজি দওে বিক্রি হচ্ছে। অনেক আম চাষী আশংকা করছেন আমের বাজার দর পতনের।
এদিকে আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছেন, এবার রংপুর অঞ্চলে হাড়িভাঙ্গার ফলন ভালো হয়েছে। সারাদেশে জনপ্রিয়তার তালিকায় থাকা এ আম এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সব আম পরিপক্ক হবে। এ সময়ে বাগান মালিকরা গাছ থেকে হাড়িভাঙ্গা আম পাড়তে পারতে শুরুও কওেরছেন। নতুন আম বাজাওে উঠতেও শুরু করেছে। আবহাওয়া প্রতিকূলে বা প্রচন্ড গরম থাকলে সপ্তাহখানেক আগেও বাণিজ্যিকভাবে বাজারে হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করতে পারবেন আমচাষিরা। এবার রংপুর অঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায়  প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সব জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র তিন হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে হাড়িভাঙ্গা আম। এ বছর রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকাতে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন হয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। যা এবার ১৫ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
এদিকে ফলন ভালো হলেও গত দুই সপ্তাহের ঝড়-বাতাসে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত  সবকিছু ঠিক থাকলে শুধু হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে এবার ২শ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পারবেন এ জেলার আমচাষিরা। বিগত কয়েক বছর ধরে রংপুর অঞ্চলকে সমৃদ্ধির দিকে নেয়া সুস্বাদু, মিষ্টি ও রসালো ফল হাড়িভাঙ্গার কদর এখন দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানের আম শেষ হবার পরই রংপুরের বাজারে আসে এই আম। মৌসুমের শুরুতে হাড়িভাঙ্গার চাহিদা বেশি থাকায় এর দাম কিছুটা বেশি থাকে। সেক্ষেত্রে খুরা বাজাওে প্রতি কেজি হাড়িভাঙ্গা আম ৬০থেকে৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে হাড়িভাঙ্গা কেনা ছাড়াও বড় বড় বাগান মালিকদের সঙ্গে সরাসরি এবং অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেও আম সরবরাহ করা হচ্ছে।
অপরদিকে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ করে আসা আব্দুস ছালাম জানান, তিনি এবার ১৪ একর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ করেছেন। বিগত বছর এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ আম চাষিদের বাগান কিনে নিতেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। ইতোমধ্যে গত কয়েক দিনের ঝড় ও বৃষ্টিতে তার বাগানের প্রায় লক্ষাধিক মণ আম নষ্ট হয়ে গেছে। হাড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারক হিসেবে পরিচিত মিঠাপুকুরের সফল এ আমচাষি জানান, আম পরিপক্ক হয়ে উঠছে। ফলে এখন বাজারজাত করা শুরু হবে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড, সারোয়ারুল হক জানান, দেশের অন্যান্য স্থানের আম শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাড়িভাঙ্গা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। এই আম বাজারে আসতে শুরু করেছে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান ইতোমধ্যে বিখ্যাত এ আমের বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বড় বড় চাষিদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করানো হচ্ছে। আমচাষিদের তালিকা করা হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির ওপর এবার অনেক কিছু নির্ভর করছে।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর