সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীর হৃদয় বিদারক ফেসবুক স্টাটাস
শহিদ ইসলাম সুজন : লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের স্টরকিপার শফিকুল ইসলামের পিতা অহেদ আলীর সামান্য জ্বর সর্দী দেখা দিলে গত ১১জুন তার নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর পিসিআর ল্যাবে প্রেরন করা হলে ১৩জুন শনিবার তার করোনা পজেটিভ আসে। এর পরে হাসপাতালে দিনরাত সেবা দেয়া স্টরকিপার শফিকুল ইসলাম একটি হৃদয় বিদারক স্টাটাস দেন   পাঠকদের জন্য তার স্টাটাসটি সম্পূর্ণ তুলে ধরা হলা।
‘আমি একজন করোনা রুগীর সন্তান ও সমাজের বোঝা হিসেবে বলছি হয়তবা আমার কথাগুলো সবার ভাল লাগবেনা তবুও কিছু কথা না বলে ঘুমাতে পারছিনা।আমার বাবার করোনার পজিটিভ রেজাল্ট পাই তখন আমি অফিসেই বসে আছি।আমার যেন আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ল। কি আর করার বাস্তবতা তাতো মেনে নিতে হবে।বড় অপরাধ মেডিকেলে চাকুরি আর আমার ধারনা আমার কারনে আমার বাবার আজ এই পরিনতি।কারন আমার বাবা গত ফেব্রুয়ারি হতে আজ পযর্ন্ত সে ২০০ গজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল আর দু তিন দিন মিশন মোড়ে গিয়েছে এর বাহিরে নয়।যা হোক এটা তার ভাগ্যে ছিল সে ভুক্তভোগী আর আমি নিজেকে অপরাধি মনে করছি।সকালটা শুরু ভালই ছিল আর এটার জন্য কেউ প্রস্তুুত ছিলাম না। ১০ টার দিকে চৌকিদার এসে বাড়িতে লাল পতাকা উড়ালো আর এমনভাবে রাস্তা বন্ধ করে দিল দেখে নিজেকে খুব ছোট মনে হলো।তবুও মেনে নিলাম এটা সরকারী সিদ্ধান্ত। আমাদেরকে চৌকিদার শিখিয়ে দিয়ে গেল স্বাস্হ্যবিধি আমি মুখ বুঝে শুনলাম হ্যা আমরা যে ভিকটিম। কিন্তুু চৌকিদার সাহেব এটা বলে গেলনা একটা ট্যাবলেট লাগলে কার মাধ্যেমে ম্যানেজ করব বাড়িতে আমাদের চারটি ছোট বাচ্চা আছে কিভাবে তাদের আব্দার মিটাবো।আমি এটা জানি বাড়ির বাহিরে যাওয়া যাবেনা।কিন্তুু এটা জানিনা কিভাবে আমাদের পরিবারের কিছু প্রয়োজন মিটাবো আমি বলছি না সরকার আমার বাড়িতে ত্রান পাটাক।আমার কস্ট একটাই যে যারা পতাকা টানিয়ে গেল তাদের কি পতাকা টানিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেল একটি বার কি কার জানার প্রয়োজন মনে করেনি তার কোন ঔষুধ পত্র আনতে পেরেছি কি না।আল্লাহর রহমতে যদি একমাসও লকডাউনে থাকি তবুও আল্লাহ কিনে খাবার মত ক্ষমতা আমাদের দিয়েছে কিনবো কিভাবে যে ভাবে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে না জানি কত বড় অপরাধ আমাদের নতুবা করোনার চাষাবাদ করছি।আমি বাড়ি থেকে বাহির যদি না হই তবুও চলবে।কিন্তুু আমার কাধে যে বিরাট বড় দায়িত্ব রয়েছে সেটা কিভাবে পালন করব।আমি অফিসে যেতে না পারলে যে অনেক রুগিকে ঔষুধ সরবরাহ দিতে পারবনা আমার চাচাত ভাই সে আমার বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দুরে থাকে তার মাধ্যেমে টুকিটাকি কিছু কেনার চেস্টা করেছি তাকেও বিভিন্ন জন বিভিন্ন রকম কথা বলে। প্রশ্ন জাগে আমার না হয় দুদিন খাবার ব্যাবস্হা আছে যাদের ঘরে থাকেনা তাদের কি হবে।তাই প্রশাসনের কাছে করজোরে মিনতি করছি কার বাড়িতে পতাকা টানাবার আগে তাদের প্রয়োজন গুলো জেনে নেবার চেস্টা করবেন তা নাহলে রুগিকে মরতে হবে ঔষুধ ছাড়া আর পরিবারের লোকজনকে মরতে হবে খাবার ছাড়া। অনেক হতাশার মাঝেও ভাল লেগেছে আমাদের প্রায় সকল চিকিৎসক বৃন্দ বাবার খোজ খবর রাখছে দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।আর গর্ব করার মত একটা খবর হলো আমাদের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স সে ও করোনা আক্রান্ত তার পরও সে কিছুক্ষন আগে ফোন করে বলেছে যে যদি চাচার শরীরে প্লাজমা থেরাপি দেয়ার মত সময় আসে আমি দিতে প্রস্তুুত আছি এর থেকে আর বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। যদিও আমার বাবা সুস্হ আছে আল্লাহর রহমতে বিন্দুমাত্র কোন অসুবিধা নেই।সে পযর্ন্ত যেতে হবেনা।সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।আমার বাবা যেন স্বাভাবিক জিবনে ফিরে আসতে পারে।’
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর