রংপুর বিভাগে ৪ হাজার কিন্ডারগার্টেনর শিক্ষক-কর্মচারী করোনা দূর্যোগে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে
স্টাফ রির্পোটার: রংপুর বিভাগের কিন্ডারগার্টেনের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক/শিক্ষিা কর্মকর্তা-কর্মচারী চলমান করোনা দূর্যোগে উপার্জনহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। গত ২ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। ৪ হাজারের বেশি কিন্ডারগার্টের স্কুলে কিন্ডারগার্টেনস্কুল রয়েছে এ বিভাগে। কিন্ডারগার্টের স্কুলে আছেন প্রায় ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরর্তা। জীবন বাঁচাতে সরকারি প্রণোদনায় আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 
করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৪ হাজারের বেশি কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতনের ওপর নির্ভর করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিপাকে পড়েন এতে। সরকারি নির্দেশনা ও লকডাউনের কারণে আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে যায় তাদের। কিন্ডারগার্টেনের ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।এতে তারা মানবেতর জীবনযাপনসহ অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে অধিকাংশ শিক্ষক লোকলজ্জায় সরকারি ত্রাণ নিতে আসতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বাইরে থাকায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম অথনৈতিক সংকটে পড়েছেন।
ফাইভ ষ্টার প্রি-ক্যাডেট স্কুলের আয়া মোসলেমা বলেন, আমি বিধবা মানুষ স্কুলের বেতন দিয়ে কোনোরকম দিন চলে যেত। কিন্তু এখন স্কুল বন্ধ থাকায় আমি চরম দুর্ভোগে পড়েছি। অভাব-অনটনে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হচ্ছে।
কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলে, কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পাঠদান করে আমরা সামান্য বেতন পাই। সেটি দিয়ে কোনো রকমে জীর্বিকা নির্বাহ করি। কিন্তু করোনার কারণে এখন সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি। কীভাবে আমরা চলব, সেটি জানি না।
এদিকে, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের সংগঠন নর্থ বেঙ্গল কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল সোসাইটি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশাসনের সহায়তায় চাল বিতরণ করেছে, যা মোট চাহিদার যৎসামান্য বলছেন সংগঠনের সংগঠকরা। ইতোমধ্যে সরকারি প্রণোদনার আওতায় এসব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
নর্থ বেঙ্গল কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল সোসাইটির মহাসচিব অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুল না থাকলে শিক্ষাদানে সরকারকে অনেক জনবল নিয়োগসহ অবকাঠামো তৈরি করতে হতো। এতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়ে যেত। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সরকারি প্রণোদনার আওতায়  দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ত্রাণ সরবরাহের দাবি রাখছি।
এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কেএম তারিকুল ইসলাম সরকার সাংবাদিদের বলেছেন, দেশে কেউ যেন অভুক্ত না থাকে সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ করেছেন। আমরা সব পেশার মানুষের তালিকা  করে তাদের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। আশা করি, স্কুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার পৌছে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে চাহিদামাফিক আরও দেয়া হবে। এসব ভুক্তভোগী শিক্ষকের প্রণোদনার বিষয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর