কাঁচা মরিচ নিয়ে বিপাকে কৃষক ॥ দুই টাকা কেজি
জাহাঙ্গীর আলম শাহীন: জেলার কৃষক কাঁচামরিচ আবাদ করে বিপাকে পড়েছে। আজ বুধবার কুমড়িরহাট বাজারে দুই শত টাকা মনে এক বস্তা কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারের এখন এক কেজি কাঁচা মরিচ ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের মিশনমোড়ের কাঁচা বাজারে খুচরা মূল্যে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। খেত হতে চাহিদামত বিনামূল্যে মরিচ তুলে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশীরা।
কুমড়িরহাটের কৃষক মোঃ রজব আলী (৪২) জানান, তার এলাকায় সারা বছর তরিতরকারী চাষবাস হয়। চাষ হয় মরিচ। এ বছর তিনি দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। কিন্তু মরিচের দাম নেই। আবাদে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন,করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে লকডাউন চলছে। হাটবাজার বন্ধ। পাইকার আসতে পারছে না। তাই কাঁচা  মরিচের দাম নেই। অথচ বৃষ্টি হলে কাঁচা মরিচের বাজার চড়া হয়। এবারে উল্টো চিত্র। একমন মরিচ বিক্রি করে একজন কৃষিশ্রমিকের মজুরি উঠে না। সরাদিনে একজন শ্রমিক খুব পরিশ্রম করে মরিচ খেত থেকে তুলতে পারবে খুবজোর দেড় থেকে দুই মন। এই মরিচ বাজারের নিতে পরিবহন খরচ লাগে। সবে মিলে খেত হতে মরিচ তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করে কোন লাভ নেই। তাই খেতে মরিচ পঁচে যাবে। কাল হতে কোন কৃষক ভর্তুকি দিয়ে মরিচ তুলে বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাবে না। প্রতিবেশীদের বলেছি, যতটুকু প্রয়োজন তোমরা কাঁচা মরিচ খেত থেকে তুলে নিয়ে যাও। কোন মরিচ গাছ ভেঙ্গে ফেলো না। যদি দাম হয়।
লালমনিরহাটের গোশালা বাজারের কাঁচা বাজারের আঁড়তদারা জানান, বাহির হতে কোন পাইকার আসেনা। আমরাও বাহিরে নিতে পারছিনা। কারণ ট্রাক ও ছোট পিকাপভ্যান পাওয়া যায় না। ভাড়া বেশী চায়। বাহিরে নিয়ে কোথায় বেঁচবো। কৃষি বাজার তো সারাদিন খোলা থাকে না। সামান্য কিছুক্ষণের জন্য খোলা থাকে। ব্যবসায়ীরা গিয়ে কোথায় থাকবে। কোথায় খাবে।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর