সরকারের তত্বাবধানে লালমনিরহাটে থেকে কৃষি শ্রমিক হাওরাঞ্চলে যাচ্ছে
স্টাফ রির্পোটার: ধান কাটতে উত্তরের  লালমনিরহাটের আজ  মঙ্গলবার যাচ্ছে ৬০ জন কৃষিশ্রমিক হাওরাঞ্চলে। দুইদিন আগে ৩৪ জন কৃষিশ্রমিক সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছে। পর্যায় ক্রমে হাওর অঞ্চলে যত কৃষি শ্রমিক প্রয়োজন যাবে। কৃষি শ্রমিকদের যাতাযাত র্নিবিঘœ করতে সরকারের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন সকল ধরনের সহায়তা করছে। তবে কৃষি শ্রমিকদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে নিতে হবে করোনাভাইরাসের উপসর্গ মুক্ত ফিটনেস সার্টিফিকেট। এ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে উত্তরের কয়েক হাজার কৃষিশ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুয়োগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কৃষিশ্রমিকের পরিবার গুলো অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে। প্রশাসন সহায়তা করায় স্বজনরা থাকবে আশস্কামুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে কৃষিশ্রমিকরা শ্রমিকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলে ধান পাকতে শুরু করেছে। ধান কাটা নিয়ে র্দূচিন্তায় পড়েছে হাওরাঞ্চলের জোতদার ও কৃষক পরিবার গুলো। সেখানে দেখা দিয়েছে ধানকাটা কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট। চলছে বৈশাখ মাস যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে কালবৈশাখী ঝর। হতে পাড়ে ভারি বৃষ্টিপাত। এতে দেখা দিতে পারে হাওরাঞ্চলে বন্যা। তাকে পাকা ধান ডুবে যেয়ে নষ্ট হতে পারে। এতে করে ধান উৎপাদন ব্যহ্নত হতে পারে। এ বছর বিশ্বে করোনা সংক্রমণ রোধে যুদ্ধ চলছে। চলছে লকডাউন। এতে করে সারা বিশ্বে খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষনা দিয়েছে করোনা সংক্রামনরোধে সারা বিশ্বে প্রায় ৩ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যেতে পারে।
বাংলাদেশ খাদ্যে উবৃত্ব রয়েছে। কোন কারণে যদি খাদ্য সংকট পড়ে তাহলে বিশ্ব বাজার হতে সেই চাহিদা মোকাবেলঅ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই দেশের উৎপাদিত ধান দিয়েই খাদ্য চাহিদা মেটাতে হবে। কোন কারণে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাক সরকার চায় না। আবার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়ে যাক। সেটাও সরকার চায় না। তাই লালমনিরহাটসহ রংপুর অঞ্চলের কৃষি শ্রমিকেরা হাওরে গিয়ে ধান কাটুক সরকার সেটা চায়। সরকার আবার করোনাসংক্রামণ ঝুঁকিতে কৃষিশ্রমিক ও হাওরাঞ্চলের মানুষ পড়–ক সেটা চায় না। তাই কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। তার শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রামণের কোন উপসর্গ নেই। এছাড়াও নিশ্চিত হবে সে ১৪দিনের মধ্যে কোথাও গিয়ে ছিল কী না। ১৪ দিনের মধ্যে কোথাও হতে এসেছে কী না।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রামণ রোধে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তাই সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই কৃষিশ্রমিক অন্যত্র যেতে চাইলেও যেতে পারবে না। তাই জীবন-জীবিকার কথা মাথায় রেখে কৃষি শ্রমিকদের সহায়তা করছে স্থানীয় প্রশাসন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিশ্রমিক ও হাওরের কৃষক এবং দেশের খাদ্য চাহিদা মাথায় রেখে কৃষি কাজে সহায়তা দেবার উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাওরে যাচ্ছে কৃষি শ্রমিক।

লালমরিহাটের কৃষি শ্রমিক দলের ১টির সর্দার মোঃ জয়নাল উদ্দিন(৪৩) জানান, ধান কাটার জন্য হাওরাঞ্চলের বিত্তবাণ কৃষক ও জোতদারেরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে। কিন্ত করোনা প্ররিস্থিতির কারণে তারা জেতে পারছিল না। এখন সরকার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সহযোগীতা করছে। তাই তারা খুবদ্রুত হাওরাঞ্চলে গিয়ে কাজে যোগদান করতে পারবে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে ধানপাকার প্রায় ১৫/২০ দিন আগে হাওরাঞ্চল ও দক্ষিণের নিম্মাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধান পাকে। অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় একসাথে ধানকাটতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে হাওরের কৃষক। তখন সেখানে কৃষিশ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। এ সময় রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা হতে শত শত কৃষি শ্রমিক পাড়ি জমান হাওরাঞ্চল ও দক্ষিণের জেলাগুলোতে। হাওরে ৭০ ভাগ কৃষি শ্রমিকের চাহিদা মেটায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলার কৃষি শ্রমিকেরা। কিন্তু এবার করোনার কারণে তারা গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। জেলায় জেলায় চলে লকডাউন । ধান কাটতে গন্তব্যে যেতে পারছন না। তার ছাড়াও সরকারের বিধি নিষেধ ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কৃষি কাজে লকডাউন শিতিল করেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে উম্মুক্ত স্থানে যেখানে বাতাস প্রবাহ ও প্রচুর আলো বাতাস থাকে সেখানে করোনা সংক্রামণ ঝুঁকি অনেক কম। একটু স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রেখে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধে মাক্স পড়ে কৃষি কাজ করা যেতে পারে।
রবিবার বিকালে এ জেলা হতে ১৪ জন কৃষি শ্রমিক সরকারের ও স্থানীয় শ্রশাসনের সহায়তায় নাটোরের চলন বিলের নিন্মাঞ্চলের পাকা ধান কাটতে চলে গেছে। লকডাউনের কারণে পুলিশ গাড়ি রিকুজিশন করে দিয়েছে। রাস্তায় যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যবস্থাও করে দিয়েছে।  খেতমজুরদের বাঁচাতে সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এ অঞ্চলের কৃষি শ্রমিকদের হাওরে নেয়ার ও কাজ শেষে আবার ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।  জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী  জানান, হাওর অঞ্চলের ধান কাটা না হলে ওই অঞ্চলের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা উপপরিচালক মোঃ সামীম আশরাফ জানান, যেসব কৃষিশ্রমিক হাওরাঞ্চলে ও দক্ষিণাঞ্চলে ধানকাটার কাজ করতে যেতে ইচ্ছুক তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়ন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের দিয়ে তালিকা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কৃষিশ্রমিকদের যাতাযাতের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কৃষি শ্রমিকদের হাওরাঞ্চলে পাঠানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিকদের তালিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মাধ্যমে সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা করে রবিবার ১৪ জন কৃষি শ্রমিককে সরকারি তত্বাবোধানে হাওরাঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। সোমবার গেছে ২০ জন। আজ মঙ্গলবার গেলো ৬০ জন। এভাবে হাওরাঞ্চলের চাহিদামত কৃষি শ্রমিক পাঠানো হবে। আবার তাদের ফিরিয়ে আনতেও সরকার কাজ করবে। যেসব কৃষিশ্রমিক হাওরাঞ্চলে কাজ করতে যাবে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে করোনা উপসর্গ নেই। এমন ফিটনেস সার্টিফিকেট আনতে হবে।
সপ্তাহের বিশেষ প্রতিবেদন- এর অন্যান্য খবর