ঘরের দেয়াল ভেঙে দেয়ার অভিযোগ!
স্টাফ রিপোর্টার: লালমনিরহাটের আদিতমারীতে জমি আছে ঘর নেই- এই প্রকল্পের দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণের কাজ শেষ না হতেই ওই ঘরের একটি ওয়াল ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সুবিধাভোগি রোজেয়া বেগমের নামে ৷ আর এ অভিযোগ করেছেন ওই প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের জন্য আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। যার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিকট দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের ২ নং মদনপুর গ্রামের দেলোয়ার  হোসেনের মেয়ে রোজেয়া বেগমের নামে সরকারীভাবে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়৷ আর এ ঘরটি দুর্যোগ সহনীয় প্রকল্প থেকে নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। যার প্রকল্প চেয়ারম্যান হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী। অভিপত্রে তিনি উল্লেখ করেন,ঘর নির্মাণের কাজ চলাকালী সময়ে রোজেয়া বেগম আকস্মিকভাবে ঘরের একটি ওয়াল তিনি ভেঙে দেন। আর পরদিন তিনি কাজের মান নিম্নমানের  হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে একটি মহলের ইন্ধনে রোজেয়া বেগম ওই ঘর বাবদ ৬০ হাজার টাকা পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীকে ঘুম দিয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে প্রকল্পের চেয়ারম্যান পরদিন ওই মহিলার বিরুদ্ধে নির্মানাধীন ঘর ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ করেন।
উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্তে যান আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্ট্রিমেটের বাহিরে কাজ করায় রাজমিস্ত্রীকে তাৎক্ষণিক ঘরের একটি পিলারের অংশ ভেঙ্গে দিতে বলেন। এছাড়াও তিনি এসময় প্রকল্পের চেয়ারম্যানকে ওই মহিলার কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ারম্যান টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি ওই মহিলাকে টাকা দেয়ার বিষয়টি তদন্ত কমিটির নিকট প্রমাণ করাতে বলেন। টাকা দেয়ার প্রমাণ করাতে না পারলে উপস্থিত লোকজন ওই মহিলার বিরুদ্ধে মামলার করার জোরালো দাবী করেন।
এদিকে পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে রোজেয়া বেগম একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানী করছেন বলে এলাকাবাসী দাবী করেন।
ঘর ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়ে রোজেয়া বেগমের সাথে কথা হলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজের মান খারাপ হওয়ায় দেয়াল ভেঙে পড়েছে। এতদিন পর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ কেন? এমন প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেননি তিনি। তবে তিনি দাবী করেন টাকা তাকে দেয়া হয়েছে।
পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, ঘর নির্মাণের কাজ চলাকালীন সময়ে একটি পক্ষের কথামত দেয়ালের একটি অংশ ভেঙ্গে দিয়ে নিম্নমানের কাজ ও টাকা নেয়ার অভিযোগ করেন সুবিধাভোগী ওই মহিলা। তিনি দাবী করে বলেন, এতদিন টাকা নেয়ার কোন অভিযোগ উঠল না কেন?। ওই পক্ষটির কথামত তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হেয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনিও এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে কাজের মান নিম্নমানের হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  ঘর পেতে চেয়ারম্যানকে ওই মহিলার টাকা দেয়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত। তিনি আরো বলেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে তিনি সদস্যদের তদন্ত টিম করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম এধরনের একটি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এক নজরে- এর অন্যান্য খবর